ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন মডেল গ্যালাক্সি নোট-৭-এ বারবার ব্যাটারি বিস্ফোরণ ও আগুন ধরে যাওয়ার অভিযোগে শেষমেশ ফোনটির উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিলো ফোনটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। এটি কোম্পানির জন্য অনেক বড় একটি লোকসান হলেও একমাত্র লোকসান নয়। গ্যালাক্সি নোট-৭ কেলেঙ্কারির প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও।
টানা দরপতনের মুখে এখন কোম্পানিটির শেয়ার। বুধবার দিনের শুরুতেই দক্ষিণ কোরিয়ার এই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর কমেছে ৩ শতাংশ। এর আগের দিন মঙ্গলবার ধস নেমেছিল আরও ৮ শতাংশ। এভাবে মাত্র দু’দিনেই স্যামসাং তার বাজারদরের ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি হারিয়েছে।
হঠাৎ ব্যাটারি বিস্ফোরিত হয়ে গ্যালাক্সি নোট ৭ -এর ডিভাইসে আগুন ধরে যাচ্ছে – বিশ্বব্যাপী এমন অনেকগুলো অভিযোগ পেয়ে গত সেপ্টেম্বরে এই মডেলের ২৫ লাখ হ্যান্ডসেট বাজার থেকে উঠিয়ে নেয় স্যামসাং। পরে সেগুলো বিনামূল্যে বদলে নতুন নোট ৭ ফোন দেয়া হয় এবং গ্রাহকদের নিশ্চিন্ত করা হয় যে, নতুন ডিভাইসগুলো নিরাপদ।
কিন্তু পাল্টে দেয়া বেশ কিছু নতুন হ্যান্ডসেটেও আগুন ধরে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালায় স্যামসাং। পরীক্ষার এক পর্যায়ে একটি নোট ৭ হ্যান্ডসেট আগুন জ্বলে উঠে পুড়ে যায়।
শেয়ারবাজারে গত এক মাসে সর্বনিম্ন দরে আছে স্যামসাংয়ের শেয়ার। এই দরপতন বাজার থেকে ফিরিয়ে নেয়া গ্যালাক্সি নোট-৭-এর কারণে হওয়া ক্ষতির চেয়ে বেশি আর্থিক লোকসান বয়ে আনবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বখ্যাত এই প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তির জন্যও এটি বিপজ্জনক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্যালাক্সি নোট-৭ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় ভবিষ্যতে আরও ভুগবে স্যামসাং। বিশেষ করে নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল আর অ্যাপলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়। কেননা সম্প্রতি নতুন নতুন উচ্চ প্রযুক্তির স্মার্টফোন আনার ঘোষণা দিয়েছে এরা।
তাই প্রতিষ্ঠানটির জন্য আরো ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অ্যাপলের নতুন ফোন আইফোন ৭-এর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট-৭। নোট-৭-এর ত্রুটির কারণে অ্যাপলের শেয়ারের দর এখন গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।








