উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর নেপালের মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও আইনী জটিলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ময়নাতদন্তের জন্য এখন নেপালে অবস্থান করছেন ডা. সোহেল মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেডিকেল টিমের প্রতিনিধি দলের এই সদস্য নেপাল পৌঁছান।
নেপালি গণমাধ্যম মাই রিপাবলিকা.কমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন কোন দুর্ঘটনা যদি ঘটত, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রোফাইলিং শেষ করে আমরা শনিবারের মধ্যেই সকল মরদেহ হস্তান্তর করে দিতে পারতাম।
“এখানে আইনগত অনেক জটিলতা রয়েছে, যা বাংলাদেশি ও নেপালি আক্রান্তদের স্বজনদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।”
গত সোমবার কাঠমান্ডুতে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় ৭১ যাত্রীর মধ্যে ৫০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। নিহত এই ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে ২২ জনের লাশ শনাক্তের কথা জানিয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। অন্য ৪ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনায় নিহত ৫০ জনের মধ্যে ৩৩ জনের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে ২২ বাংলাদেশি ছাড়াও রয়েছেন ১০ জন নেপালি ও একজন চীনা নাগরিক।
বাংলাদেশিদের লাশ সোমবার দেশে আসবে বলে জানানো হয়েছে।
নেপালের চিকিৎসকরা একটু বেশি প্রথাসিদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। নেপালি চিকিৎসকদের এই ধরনের আচরণের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আমাদের দেশে আমরা মরদেহ পাওয়ার পরপরই ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করি এবং তা প্রোফাইলিং এর জন্য পাঠিয়ে দেই। পরে ময়নাতদন্ত করি। এরপর যতদ্রুত সম্ভব নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করি।
“কিন্তু এখানে ডাক্তাররা ময়নাতদন্তের সময় ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করছে। তাছাড়া যখন আমরা ডিএনএ স্যাম্পলিং এর জন্য নিহতদের দাঁত চাইলাম, তারা বলে, মৃতদেহের দাঁত সংগ্রহ করা অনৈতিক।”
“অথচ তারা ময়নাতদন্তের প্রয়োজনে ঠিকই বুক, মাথা কাটছে। তাহলে ডিএনএ স্যাম্পলিং এর জন্য দাঁত সরবরাহ করলে তা অনৈতিক হয় কিভাবে?”
ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের চিকিৎসকরা স্বজনদের মরদেহ দেখতে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সময় আমরা ঠিক এমনটিই করেছিলাম। কিন্তু তারা বলছে তাদের সিস্টেম অনুযায়ী এখানে তা সম্ভব নয়।
তবে নেপালের প্রশংসাও করেছেন ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে নেপাল যে অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে তা সবাই জানে। আমরা এক্ষেত্রে সেরা না হলেও, নেপাল অবশ্যই বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে। কিন্তু এরপরও তারা ময়নাতদন্ত পরিচালনায় কিছু ভালো সুবিধা দিয়েছে।
ডিএনএ স্যাম্পল বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া আইনী জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিহত যাদের মরদেহ এখনও শনাক্ত করা যায়নি, তাদের ডিএনএ প্রোফাইলিং এর জন্য স্যাম্পল সংগ্রহ করেছি। আমরা আর ১ বা ২ দিনের মধ্যেই স্যাম্পল সংগ্রহ শেষ করবো। তারপর সেগুলো ঢাকায় নিয়ে যাবো।
গত সোমবার ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ আরোহী ছাড়াও ৪ জন বাংলাদেশি ক্রু ছিলেন।
দুর্ঘটনায় আহত ১০ বাংলাদেশিদের মধ্যে আজ ২ জন সহ ৭ জনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। বাকি তিনজন সিঙ্গাপুর ও দিল্লিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।







