পিএসজির সঙ্গে একাধিকবার শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় বসেও বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ নেইমারকে নিতে পারেনি। শেষ খবর, দুই ক্লাবের তরফে দেনা-পাওনায় মতের মিল হয়নি। ফলে সমস্ত কিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নেইমার নাটক শেষ হয়ে গেছে। অন্তত শীতকালীন দলবদল পর্যন্ত তাকে পিএসজিতেই থেকে যেতে হচ্ছে।
ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় তলানিতে এনে ফেললেও নেইমার তার প্যারিসে থাকার ব্যাপারটা পরিবারের সকলকে জানিয়েও দিয়েছেন। তবে ফরাসি রাজধানী এবং কাতালোনিয়া উভয় ক্ষেত্রেই এই নাটকের প্রভাব থাকবে।
নেইমার নাটকের ফলে যে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে তা অনেক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষত সমর্থকদের সাথে, তবে পিএসজি এবং বার্সেলোনা উভয়ের খেলোয়াড়ের সাথেই ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর থেকে নেইমারকে তার স্বাভাবিক জীবন আবার শুরু করতে হবে এবং সেটা এমনভাবে যেন কোনো কিছুই হয়নি।
বার্সেলোনায় ফাটল
বার্সেলোনার ক্ষেত্রে নেইমার ভূমিকম্পের প্রভাব স্পষ্ট। কিছু অনুরাগী ক্লাবের বোর্ডের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না, কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার (নেইমার) আগমন সম্ভবত ক্লাবকে আর্থিকভাবে বিপদগ্রস্ত করবে। অন্যরা আবার নেইমারের ফিরে আসাকে লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং নেইমারের সাথে বিখ্যাত এমএসএন ‘ত্রিফলার’ পুনর্মিলন করার সুযোগ হিসাবে দেখেছেন। পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলে সর্বাধিক বিপণন যোগ্য খেলোয়াড়কে সাইন ইন করার একটি সুযোগ হিসাবেও দেখেছেন অনেকে।
নেইমারের জন্য অফিসিয়ালি যেসব প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল সেগুলো দলের স্কোয়াডে স্পষ্টতই নেতিবাচক অর্থে প্রভাব ফেলেছে। বার্সেলোনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় তাদের নাম নেইমারের প্রস্তাবের আলোচনায় দেখেছেন- ইভান রাকিটিচ, নেলসন সেমেদোও, উসমান ডেম্বেলে, স্যামুয়েল উমতিতি, জ্যান-ক্লেয়ার টোডিবো এবং আর্থার মেলো। তবুও এখন তাদের এমন আচরণ করা উচিত যেন কিছুই হয়নি, যেমনটা প্যারিসে করতে হবে নেইমারকে। তবে সেটা করা সহজ কাজ হবে না।
প্যারিসে ফাটল
প্রথম শিকার হলেন নেইমার নিজে, যিনি ক্যাম্প ন্যুতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা কখনো আড়াল করেননি। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং বৈরী পরিবেশে এখন তাকে প্যারিসে থাকতে হবে (কমপক্ষে জানুয়ারি পর্যন্ত)। পিএসজির কট্টর সমর্থকরা ইতিমধ্যেই ২৭ বছরের তারকার বিরুদ্ধে অপ্রিয় এবং বিরূপ ব্যানার নিয়ে তাদের অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত ১১ আগস্ট লিগ ওয়ানের উদ্বোধনী ম্যাচের সময় পিএসজির স্টেডিয়াম পার্ক ডেস প্রিন্সেসে নেইমারের বিরুদ্ধে স্লোগানও শোনা গেছে।
ক্লাব সমর্থক এবং ব্রাজিলিয়ান তারকার মধ্যে শান্তিচুক্তির অনুপস্থিতি দল এবং প্রধান কোচ থমাস টুখেলের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে, যারা নেইমারকে ট্র্যাকে ফেরার জন্য অভিনন্দন জানাবে এবং সেইসঙ্গে এই মৌসুমে পিএসজিকে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে মনোযোগ ফিরিয়ে নিতে হবে।
জার্মান কোচ বুঝতে পেরেছিল যে, তিনি তার নাম্বার টেনকে হারাতে চলেছেন এবং পাওলো দিবালার সাথে খুব বেশি সংযুক্ত থাকার সঙ্গে তিনি অন্যান্য বিকল্পের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করেছেন। তবে এখন অন্যকোনো খেলোয়াড়কে জায়গা না দিতে হওয়ায় নতুন মৌসুমের প্রচার পরিকল্পনায় আগের স্থানে ঠিক থাকতে হবে।
তারপরে আছেন কাইলিয়ান এমবাপে। ফরাসি তারকার নেইমারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং খোলামেলাভাবে জানিয়েছিলেন যে তিনি চেয়েছিলেন নেইমার থাকুক, তবে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই এখন তাকে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের সাথে স্পটলাইট ভাগ করে নিতে হবে।
গত মৌসুমের শেষের দিকে এমবাপে প্রকাশ্যেই পিএসজিতে আরও দায়িত্বের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। যেটাকে কেউ কেউ অন্য আলোচনা সরানোর কৌশল বলেছিলেন। তবে বাস্তবে তিনি (এমবাপে) কেবল পার্ক ডেস প্রিন্সেসের তারকা হতে চেয়েছিলেন। আসলে এমবাপে আইফেল টাওয়ারের ছায়ায় পিএসজির একমাত্র এবং প্রশ্নাতীত তারকা হতে চান।
তারপর থেকে ক্লাব নিজেরাই ২০ বছরের তারকার চাওয়াকে বিশেষ করে তুলতে চেষ্টা করেছে। পিএসজির সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি নেইমারের ব্যাপারে ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, তার আচরণ আর গ্রহণযোগ্য হবে না, ‘তাকে এখানে সই করতে কেউই বাধ্য করেনি।’
যদিও এখন যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তিতে জড়িত তিনটি দল- নেইমার, পিএসজি এবং বার্সেলোনাকে সামনের দিক যে ভূমিকম্প আসছে তার মোকাবেলা করতে হবে।







