রাজধানীর গুলশানে হলে আর্টিজান ক্যাফেতে সন্ত্রাসীদের হাতে মোট ২০ জন নিহত
হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। নিহতদের সবাই বিদেশি বলেও সেনাবাহিনীর
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান
পরিচালনা করা এবং অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনী জিম্মি ঘটনার অবসানের
সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের বিস্তারিত জানায়।
সামরিক অপারেশন পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, নিহতদের বেশিরভাগকেই রাতের বেলা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগে গতরাতে জঙ্গিদের গুলিতে ২ পুলিশ সদস্য নিহত হন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট ‘ নামের ১২ থেকে ১৩ মিনিটের মূল অভিযানে হামলাকারী ৭ জঙ্গির ৬ জন নিহত হয়। তবে, এক সন্দেহভাজনকে আটক করতে পারে যৌথবাহিনী।
অভিযানের মধ্য দিয়ে ১৩ জিম্মিকে ওই রেস্টুরেন্ট থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ১ জন জাপানি ও ২ জন শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
এছাড়া অভিযান শেষে তল্লাশি চালানোর সময় রেস্টুরেন্টের ভেতরে ২০ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গত রাতেই তাদেরকে হত্যা করা হয় বলে জানান ব্রিগেডিয়ার নাঈম আশফাক। বেশিরভাগকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। মৃতদেহগুলোকে প্রচলিত নিয়ম মেনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কোনো প্রশ্ন থাকলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রভোস্ট মার্শালের সঙ্গে ০১৭৬৯০১২৫২৪ নাম্বারে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল।
অভিযানে বেশকিছু সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ৪টি পিস্তল, ১টি ফোল্ডেড বাট একে-২২, ৪টি অবিস্ফোরিত আইইডি, ১টি ওয়াকিটকি সেট এবং বেশ কিছু ধারালো দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। চূড়ান্ত অভিযানে অংশ নেয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কেউ হতাহত হননি।
এর আগে আইএসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, তাদের সদস্যরা গুলশানের ওই ক্যাফেতে ২০ জনকে হত্যা করেছে। টুইটারে নিহতদের ছবিও প্রকাশ করে আইএসের সংবাদ সংস্থা।







