নন্দিত কথাসাহিত্যিক, চলিচ্চিত্রকার, নাট্য নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ। কোটি বাঙালির মন জয় করা প্রয়াত এ লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে জানালেন অনেক জানা অজানা কথা। জানালেন হুমায়ূন আহমেদের দুই শিশুপুত্রের অনুভূতির কথা।
চ্যানেল আই অনলাইন: সবার প্রিয় লেখক-কথাসাহিত্যিকএর জন্মদিন কীভাবে পালন করছেন?
শাওন: হুমায়ূন আহমেদ থাকার সময় প্রতিবছর যেমনটি করা হত, ঠিক সেভাবেই করা হবে। দক্ষিণ হাওয়ায় রাত ১২টা ১মিনিটে কেক কেটেছি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূনের ভক্ত, পাঠক, লেখকসহ তার অনুরাগীরা। আমি কিন্তু কাউকে আমন্ত্রণ জানাই না, সবাই হুমায়ূনকে ভালোবেসে হাজির হয়ে যায়। এই সময়টি সবার জন্য উমুক্ত থাকে।
চ্যানেল আই অনলাইন: আর সারাদিন কিভাবে উদযাপন করবেন?
শাওন: রাতে কেক কাটার পর দু’ছেলেকে নিয়ে তখনি রওনা হয়েছিলাম নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে। রাত তিন বা চারটা মধ্যে পৌঁছে গিয়েছি। ভোর হওয়ার পর পরিবারের সবাইকে নিয়ে হুমায়ূন সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। কিছুক্ষণ সময় নুহাশ পল্লীতে কাটাবো। এরপর চলে আসবো চ্যানেল আইতে সেখানে হিমু মেলায় উপস্থিত থাকবো। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে একক বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। সারাদিন হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির মধ্যে ডুবে থাকবো। আমার বিশ্বাস হুমায়ূন আহমেদ সব দেখতে পাচ্ছেন।
চ্যানেল আই অনলাইন: হুমায়ূন আহমেদ যখন ছিলেন, তখন কীভাবে জন্মদিন উদযাপন করতেন?
শাওন: হুমায়ূন আহমেদ যখন আমাদের মাঝে ছিলেন, তখন খুব সাধাসিধেভাবে জন্মদিন উদযাপন করা হত। ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটতো। বাসায় তার কাছের মানুষরা আসতেন তাদের সঙ্গে গল্পের সাগরে ভেসে যেতেন। প্রিয় খাবারগুলো খেতেন।
চ্যানেল আই অনলাইন: হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে আপনি সাধারনত কী ধরণের উপহার দিতেন?
শাওন: আমার মনে আছে, হুমায়ূন আহমেদের কোনো এক জন্মদিনে আমি একটি ক্যালেন্ডার উপহার দিয়েছিলাম। ক্যালেন্ডারটি ছিলো একটু অন্যরকম। সাধারণত বছর শুরু জানুয়ারির ১ তারিখে আর শেষ হয় ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে। আর সেই ক্যালেন্ডারের মাস শুরু হয়েছে নভেম্বরের ১৩ তারিখ থেকে। ক্যালেন্ডারে আমার এবং তার দু’ছেলের কিছু স্মৃতিময় ছবি ছিলো। সেটি তৈরি করে যখন তাকে উপহার হিসেবে দিলাম, খুব খুশি হয়েছিলেন এবং বাসায় যে আসতো তাকেই ওই ক্যালেন্ডারটি দেখতে দিত আর বলতো ‘নাও হুমায়ূন ক্যালেন্ডার’।

চ্যানেল আই অনলাইন: আপনাদের ছেলে নিষাদ ও নিনিত তাদের বাবাকে কতটুকু ফিল করে?
শাওন: যেকোনো সন্তানই তাদের বাবাকে অবশ্যই ফিল করে। আমার বাচ্চারা অন্য আর দশটা বাচ্চার মতো তাদের বাবাকে যথেষ্ট ফিল করে। বড় ছেলেটা অনেক কিছুই বুঝতে পারে, কিন্তু ছোট ছেলেটা এখনো ঠিক সেভাবে বুঝে উঠেতে পারেনি।
চ্যানেল আই অনলাইন: বাবার সর্ম্পকে ওরা কিছু বলে?
শাওন: বাচ্চারা কী বলে, এই প্রশ্নটা আমার জন্য খুব ইমোশনাল পার্ট। ওরা এখনও ভাবে, ওদের বাবা আছে কিন্তু ওরা দেখতে পারছে না। মনে করে বাবা হুমায়ূন আহমেদ হয়তো তাদের আশেপাশে আছে।
চ্যানেল আই অনলাইন: হুমায়ূন আহমেদ তাদের বাচ্চাদের নিয়ে কী স্বপ্ন দেখতেন?
শাওন: হুমায়ূন আহমেদ স্বপ্ন দেখতেন, তারা ভালো মানুষ হবে। ওনাকে কখনো বলতে শুনিনি, আমার ছেলেরা লেখক হবে বা সাইনটিস্ট হবে বা ডাক্তার হবে। আমারও তাই চাওয়া। ওরা যা হতে চায়, তাই হতে পারবে এবং আমার সে সাপোর্টটা থাকবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ
শাওন: চ্যানেল আই ও চ্যানেল আই অনলাইনকে অসংখ্য ধন্যবাদ।








