দেশে নির্মান সামগ্রী শিল্পের প্রসার ঘটাতে বিদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্যাভর ইন্টারনেশনাল আয়োজিত ‘নিরাপদ নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানী’ প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাভার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফায়জুল আলম।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকার উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে। তবে এই উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে সরকার পরিবেশবান্ধব নীতি থেকে সরে আসছে না। পরিবেশ বান্ধব অবকাঠামোর উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এলিভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে, গভীর সমুদ্রবন্দর, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু, পূর্বাচল আবাসন প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রজেক্ট এবং নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এই মেগা প্রজেক্টগুলো বাংলাদেশের জন্য নির্মাণ শিল্পের প্রসারে অফুরন্ত সুযোগ করে দিয়েছে।
দেশীয় শিল্পের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে বিশ্বমানের বেশ কয়েকটি সির্মাণ সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও তাদের পণ্য রপ্তানি করছে। এ ধারা অব্যাহত রেখেই স্বয়ংসম্পর্ণতা অর্জন করা সম্ভব। তাই এখন থেকে আমাদের বিদেশি নির্মাণ সামগ্রীর নির্ভরতা কমাতে হবে।
সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাত প্রায় ৪০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে উল্লেখ করে আমু বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার ৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে দৈনিক গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে তা ২ হাজার ৭৪০ ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।
তবে দেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান তিনি।
তিনদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীটি চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের মোট ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের স্টল রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইনিস্টিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইবি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. শামীম জেড বসুনিয়া, সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানীর (ইডকল) নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ মালিক প্রমুখ।








