২৫ বছরের মধ্যে প্রথম সব দলের অংশগ্রহণে মিয়ানমারের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের ভোট শুরু হয়েছে। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক শাসনের অবসান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কার্যত ২৫ বছর পর এ নির্বাচনে রাজনৈতিক এই পালাবদলে বদলাচ্ছে না দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম- রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ভাগ্য।
জান্তা সমর্থিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি(ইউএসডিপি)রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক বলেই স্বীকার করে না। আর শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী অং সান সু চি সম্প্রতি বলেছেন,রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম রোহিঙ্গাদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের চেয়ে আতঙ্কই বেশি৷ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় পরিবর্তন এলেও রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন কমবে এমন ভরসা তারা পাচ্ছে না৷ ২০১০ সালের নির্বাচনে রোহিঙ্গারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও এ বছর অস্থায়ী পরিচয়পত্রধারী প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা ভোট দিতে পারবে না।
নির্বাচনে সু চি’র দল জিতলেও সংবিধান অনুসারে সন্তান বিদেশী নাগরিক হওয়ায় প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না তিনি। তা-ই দেশের শাসন কাঠামোতে তার ভূমিকা কী হবে, কেমন হবে এ নিয়েও আছে জল্পনা-কল্পনা। তবে সু চি বলেছেন তার দল ক্ষমতায় গেলে প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হবে তার অবস্থান।
৫০ বছর সামরিক জান্তা শাসিত মিয়ানমারে ২০১১ সালে সেনা-সমর্থিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসে। দেশটির বর্তমান সংবিধানও সেনাশাসকদেরই তৈরি। তারা দেশটির পার্লামেন্ট ও সরকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সব সুযোগ রেখেছেন। আজকের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলেও তা পার্লামেন্টের ৭৫ শতাংশ আসনের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করবে। বাকি ২৫ শতাংশ আসন অনির্বাচিত সেনা কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। তাই যে দলই ক্ষমতায় আসুক, সেনাবাহিনীর আধিপত্য কমার সুযোগ আপাতত নেই।







