২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায় রুশ সংযোগের ‘প্রমাণ’ আছে বলে দাবি করা বেলারুশীয় মডেল এখন রুশ পুলিশের হেফাজতে।
নাস্তিয়া রিবকা (আসল নাম আনাস্তাসিয়া ভাশুকেভিচ) থাইল্যান্ড থেকে ফেরত পাঠানোর সময় মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়।
রিবকার আইনজীবী দিমিত্রি জাতসারিনস্কি একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, রিবকার মতো এক নারীকে চারজন পুরুষ জোর করে একটি হুইলচেয়ারে বসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আর ওই নারী তাদের হাত থেকে ছুটে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।
বিবিসি জানায়, ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে ওই নারী ঘুম বা অচেতন করার ওষুধের ঘোরে ছিলেন।
জাতসারিনস্কি দাবি করছেন ওই নারীই ২৭ বছর বয়সী নাস্তিয়া রিবকা। বলছেন, তার ক্লায়েন্টের মস্কো বিমানবন্দর থেকে বেলারুসের রাজধানী মিনস্কের উদ্দেশ্যে একটি কানেকটিং ফ্লাইটে চড়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে ট্রানজিট জোন থেকে আটক করে টেনেহিঁচড়ে রুশ সীমান্তের ভেতর ঢোকানো হয় এবং দ্রুত একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
View this post on Instagram
রুশ পুলিশের এই কাজটি ‘একটি আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতসারিনস্কি।
তবে রুশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, রিবকা এবং আরও তিনজনকে দেহব্যবসার অভিযোগে মস্কোর শেরেমেতিভো বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। রাশিয়ায় অর্থের বিনিময়ে যৌনকর্মের শাস্তি সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ড।
আটক চারজনের মধ্যে রয়েছেন বেলারুসে নিজেকে ‘সেক্স গুরু’ বলে দাবি করা আলেক্সান্ডার কিরিলভ। রিবকার সঙ্গে তিনি থাইল্যান্ডে পুলিশি হেফাজতে ৯ মাস ছিলেন। এরপর একটি থাই আদালত থাইল্যান্ডে বেআইনি ‘যৌন প্রশিক্ষণ কোর্স’ পরিচালনার অভিযোগে তাদের ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেন।
পুলিশি হেফাজতে থাকা সময়টাকে কারাদণ্ডের অংশ হিসেবে গণ্য করে সাজা শেষে বৃহস্পতিবার তাদেরকে থাইল্যান্ড থেকে ফেরত পাঠানো হয়।

পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায়ই রিবকা ও কিরিলভ রাশিয়ায় আটকা পড়ার ভয়ে আমেরিকান দূতাবাসের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন।
ওই সময় রিবকা দাবি করেন, তার কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় রুশ হস্তক্ষেপের প্রমাণ রয়েছে, যা তিনি রুশ বিলিয়নেয়ার শিল্পপতি ওলেগ দেরিপাসকার এক সহযোগীর কাছ থেকে পেয়েছিলেন।
দেরিপাসকা অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো রিবকা ও কিরিলভের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং জিতেও যান।
বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক পরিসরে ‘হঠকারী কর্মকাণ্ড’ পরিচালনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র যে ক’জন রুশ ক্ষমতাশালী ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ওলেগ দেরিপাসকা তাদের একজন।







