রাজধানীর আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মুঠোফোন ক্লোন করে নির্বাচনী প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণাকারী চক্রকে খুঁজতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। খুব দ্রুতই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।
ফোনে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে কারসাজির মাধ্যমে ভোটে জয়ের লোভে পড়ে ১৭ লাখ টাকা খুইয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী তিনজন আওয়ামী লীগ নেতা। এর মধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ১২ লাখ টাকা খুইয়েছেন দুই কাউন্সিলর প্রার্থী। গত বুধবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবুল কাশেম ও বিদ্রােহী প্রার্থী ইয়াসিন মোল্লার কাছ থেকে ওই টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। পাশের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ডেইজী সারওয়ারের কাছ থেকেও একই পদ্ধতিতে ৫ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।
ইয়াছিন মোল্লার হয়ে তার ছেলে কাওসার মোল্লা বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। মামলা এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২২ জানুয়ারি সকালে আদাবর থানার ওসির (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) পরিচয়ে ০১৭১৩৩৭৩১৮৩ নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, ‘আমি ওসি (আদাবর থানা), আমি আপনার জন্য নির্বাচনে কিছু করতে পারলাম না। কিন্তু আপনার জন্য একটি পথ তৈরি করে দেই। আপনি সিটি কর্পোরেশন নিবাচনে আদাবর থানা ৩০নং ওয়ার্ড এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলেন।’
তারপর ওসি পরিচয়দাতা ০১৯০৬৬৬৩০৯৬ নম্বরটি দিয়ে বলে, এটি ম্যাজিস্ট্রেটের নম্বর। খানিকবাদে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ধারীর নম্বর থেকে ফোন করে ইয়াসিন মোল্লাকে বলা হয়, ‘আপনি কি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হতে চান? যদি হতে চান, তাহলে আপনাকে ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। নির্বাচনের আগে ৫ লাখ টাকা এবং পাস করার পরে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে।’ এতে ইয়াসিন মোল্লা রাজি হয়ে ১২ দফায় পাঁচ লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠান সেই ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ধারীর দেওয়া নম্বরে।
এরপর সেদিন সন্ধ্যায় ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ধারী প্রতারক আবারও ফোন করে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা চাইলে ইয়াসিন মোল্লার সন্দেহ হয়। তখন তিনি বিষয়টি ফোন করে ওসিকে জানান।

একই ওয়ার্ডের টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকে কাউন্সিলর প্রার্থী আবুল কাশেমের কাছ থেকেও একইভাবে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। কাশেমের ম্যানেজার ফরহাদ থানায় জিডি করেছেন। পাশের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ডেইজী সারওয়ারকেও নির্বাচনে জয়ী করার কথা বলে ৫ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র।
ফোন ক্লোন করে প্রতারণা চক্রের বিষয়ে জানতে চাইলে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহীদুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি অল্প সময়ের ব্যবধানে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারব।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, তিনজন প্রার্থীর কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। তারা ওসি আদাবরের নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা করেছে। এই ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। আমরা অপরাধীদের খুঁজছি।








