সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী উল্লিখিত তারিখের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। স্বভাবতই দিন যতোই যাচ্ছে ততোই আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসছে, একইসাথে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে চারিদিকে নানান আলোচনা আশাবাদ জোরালো হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রেক্ষিত ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও আগামী নির্বাচন কেমন হবে তা গভীরভাবে অনুধাবনের চেষ্টা করছেন।
এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কর্তৃক সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর সিইসির পক্ষ থেকে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়। সেই রোডম্যাপকে ধরেই নির্বাচন কমিশন তার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শপথ নেওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তথা ইসির পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার নিয়ে মোট সাতটি করণীয় বিষয় শনাক্ত করা হয়। এরপর গত বছরের ৩১ জুলাই থেকে ইসি আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শুরু করে।
প্রথমে তারা সুশীল সমাজ এবং এরপর গণমাধ্যমকর্মী ও প্রধান প্রধান মিডিয়ার সম্পাদকদের সাথে সংলাপ করে। সংলাপে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনা, পর্যবেক্ষণ এবং প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে। নির্বাচন কমিশনের কাছে ৪০টি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মোট ৫৩১টি প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকারের দায়িত্বশীল নেতা ও ব্যক্তিবর্গ যথাসময়ে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন নিয়ে এই মুহুূর্তে ততোটা তৎপর না হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে অধিক আগ্রহ ও তৎপরতা দুইই লক্ষ্যণীয়। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলার তরুণ নেতারা। মনোনয়ন প্রত্যাশী তরুণ নেতারা এলাকায় পোস্টার, ফেস্টুনসহ নানা মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক, সামাজিক সভায় যোগদান করছেন। ধর্মসভা থেকে নামযজ্ঞ সব জায়গাতেই তাদের দেখা যাচ্ছে।
আগামী নির্বাচনে সাবেক ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন নেতা মনোনয়ন চাইবেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক শামীম, বাহাদুর ব্যাপারী, সুজিত কুমার নন্দী, ইকবাল হোসেন অপু, আমিনুল ইসলাম আমীনদের নাম যেমন শোনা যাচ্ছে তেমনি অপেক্ষাকৃত তরুণদের মধ্যে নাম শোনা যাচ্ছে সাইফুজ্জামান শিখর, মাহমুদ হাসান রোটন, হেমায়েত উদ্দিন, মারুফা আক্তার পপি, বদিউজ্জামান সোহাগসহ আরো কেউ কেউ।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহকারী সচিব মাগুরা-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্যে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এটি অনেকটাই নিশ্চিত। অনেকদিন ধরেই তিনি মাগুরা-১ আসনের দুটি থানা মাগুরা এবং শ্রীপুরে ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। রাজনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। মাগুরা-১ আসনের বর্তমান এমপি মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আব্দুল ওয়াহ্হব। একইভাবে মাগুরা-২ আসনেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ওহিদুর রহমান টিপুও মনোনয়ন চাইবেন বলে বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। মাগুরা-২ আসনের বর্তমান এমপি হলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভানত্রী, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মারুফ আক্তার পপি জামালপুর-৫ আসনে মনোনয়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন।
একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলা সদর আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক সময়ের পরিচিত মুখ তরুণ নেতা হেমায়েত উদ্দীন আহমেদ। নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজ এলাকায় তিনি ব্যাপক গণসংযোগে নেমেছেন। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। সাধারণ মানুষের আশা-প্রত্যাশার কথা শুনছেন। হেমায়েত উদ্দীন আহমেদের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে। তারুণ্যময় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হেমায়েত উদ্দীন আহমেদ বর্তমানে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন।
৯০-এর দশকে বিএনপি যখন ক্ষমতায় তখন নানা নিপীড়ন-নির্যাতন এবং ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের যেসব ছাত্রনেতা রাজপথে উচ্চকিত ছিলেন, হেমায়েত উদ্দীন তাদেরই একজন। ভোলা সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পর্কে হেমায়েত উদ্দীন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্রমশই তারুণ্য নির্ভর দলে তৈরি হচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা সবজায়গাতে তরুণদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে সবজায়গাতে তরুণরাই এগিয়ে থাকবে। দলের দুর্দিনে বরাবরই তরুণরাই সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।
তরুণ নেতৃত্বের অনেকেই মনে কারণ আওয়ামী রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে হলে তরুণ নেতৃত্বকেই সামনে আনতে হবে। পুরনো নেতৃত্ব অনেক জেলাতেই রাজনীতিটাকে ভীষণ রকম পারিবারিকীকরণ করে রেখেছে। সেই বৃত্ত থেকে আওয়ামী লীগকে বের করে আনতে হবে। এটি সত্য যে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ অভিজ্ঞ এবং প্রবীণ অনেক নেতার বিরুদ্ধেই জনমত খুব একটা ভালো না। অনেক নেতা দলীয় রাজনীতি এমনভাবে করায়ত্ত করে রেখেছেন যে তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ এবং সাধারণ জনগণের মাঝে একটা বড় ধরনের ক্ষোভ রয়েছে। আবার অনেক জায়গাতে এমন কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন যে, তারা এলাকায় খুব একটা যান না। এলাকার মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখেন না। অনেকটা অভিজাত স্টাইলে চলাফেরা করেন।
অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। ফলে তরুণ নেতাদের অনেকেই এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চান। তরুণ নেতারা মনে করেন আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তরুণ নেতদের মূল্যায়ণ করতেই হবে। সেটা না করা হলে দল প্রত্যাশিত জায়গায় যেতে পারবে না। আগামীতে যত ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো মোকাবিলা করতে হলে তরুণ নেতৃত্বকে নির্বাচনে জায়গা করে দিতে হবে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








