নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, কোটা সংস্কারের নামে নিরীহ ছাত্রদের উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির এক অপপ্রয়াস শুরু হয়েছে।
বুধবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় স্বাধীনতা হলে ‘কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের নামে অরাজকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির প্রতিবাদে’ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
‘শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ’ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ’ ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শাজাহান খান বলেন, এই আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের স্বার্থরক্ষার কোনো আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা। এই নৈরাজ্য সৃষ্টির চক্রান্তকে প্রতিহত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এ জন্য মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনায় বিশ্বাসী সকল মহলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা আমাদের সম্মানের প্রতীক জানিয়ে তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের নামে অপব্যাখ্যা করে উস্কানি দিয়ে দেশে অরাজকতা, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এই কোটা কোনোভাবেই সংকুচিত হতে আমরা দিতে পারি না। আমরা মনে করি, আদর্শহীন মেধা, আদর্শহীন রাজনীতি ও আদর্শহীন রাষ্ট্র পরিচালক দেশ ও জাতির কল্যাণ করতে পারে না।
‘যুদ্ধাপরাধীদের সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করাতে হবে। জামাত শিবির ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সন্তান যারা সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দেশের উন্নয়ন ব্যহত করছে ও নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।’
একদল রহস্যময় ব্যক্তি মুখোশ পরে চারুকলা অনুষদের আক্রমণ এবং উপাচার্যের বাসভবনে দপ্তরে হামলা ভাংচুর চালিয়ে অভিযোগ করে শাজাহান খান বলেন, ওরা ছাত্র নয় বলে মুখোশ পরে গেছে। এই মুখোশ পরেই তো জঙ্গিরা আক্রমণ করেছিল। এই মুখোশ পরেই আমরা বিডিআরে আক্রমণ দেখেছি। মুখোশ পরে যারা আন্দোলন করে সেটা প্রকৃত ছাত্র আন্দোলন নয়। ছাত্র আন্দোলন দিনের বেলা প্রকাশ্য হয়, এখন যারা মিছিল করছে। আমরা মনে করি যে এটা অনুপ্রবেশকারী এবং বিএনপি জামায়াত, যারা শেখ হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য সক্রিয় রয়েছে তাদের উস্কানি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, কোটা অনেক ধরনের। সুষ্পষ্টভাবে আগে বলা হয়েছে যোগ্যপ্রার্থী যদি ওই পদে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান বা কোটার কাউকে যদি না পাওয়া যায় তাহলে সেখানে অন্য কাউকে মেধার ভিত্তিতে নেওয়া যাবে। জনপ্রশাসন সচিব যেটা তুলে ধরেছেন যে, মেধার ভিত্তিতেই ৭০ শতাংশের বেশি নিয়োগ পেয়েছে। কাজেই যেটা তারা দাবি করেছে সেটা ইতোমধ্যে মেনে নেওয়া হয়েছে। হয়ত সঠিকভাবে তাদের কাছে এটা পৌঁছে নাই, অথবা অনেকে বুঝে নাই। না বুঝে তারা দাবি করছে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে এক মন্ত্রীর বক্তব্য কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উস্কে দিচ্ছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন কোটা আবার পর্যালোচনা করা হবে। ফলে কোন মন্ত্রী কি বললো তাতে কিছু আসে যায় না। মন্ত্রীদের কথায় কিছু হয় না, প্রধানমন্ত্রীর কথাই শেষ কথা।







