বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগ। নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘটিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর যথাযথ তদন্ত ও বিচারে বাংলাদেশ সরকার সামান্যই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের ঐ গবেষণা প্রতিবেদনে।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার প্রয়োগ ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে পররাষ্ট্র বিভাগ এ কথা বলে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর দু’টোয় ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
বিভিন্ন দেশ এবং অঞ্চল ভেদে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তার বাংলাদেশ অংশে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুজাতিক সংসদীয় গণতন্ত্র। জাতীয়সহ সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্তৃক মিউনিসিপ্যাল নির্বাচন বয়কট ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে ভোট জালিয়াতি ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা হলো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানুষ গুম, ব্লগারসহ ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিদেরকে মৌলবাদী কিছু দলের হাতে মৃত্যু, গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিভিন্ন ধরণের হস্তক্ষেপ, বাল্যবিয়ে ও জোরপূর্বক বিয়ে, নারী নির্যাতন এবং অসুস্থ কাজের পরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার।
মানবাধিকার সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও পরাধীনতা এবং বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রিতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার দেশের জনগণের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। রাজনৈতিক
সহিংসতার পাশাপাশি দলীয় সংঘাত বরাবরের মতোই জটিল সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে। এর সঙ্গে আছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। কিছু এনজিও বার বার তাদের কর্মকাণ্ডে আইনী ও অনানুষ্ঠানিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে।
বাংলাদেশে নারী এবং মেয়েশিশুরা বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনটিতে। এছাড়া শিশু অধিকারও লঙ্ঘিত হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, মূলত আর্থিক অভাবের সুযোগ নিয়ে, এবং কিছু ক্ষেত্রে পাচারের মাধ্যমে বহু শিশুকে কাজে পাঠানো হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া পরিসরেই কাজ করছে শিশুরা। এরা প্রায় ক্ষেত্রেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রতিবন্ধীরাও সমাজে বৈষম্য পাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এই বৈষম্যটি প্রকট। আরো বলা হয়, ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহিংসতা এখনও রয়ে গেছে সমাজে। যদিও বহু সরকারি ও সুশীল সমাজ নেতারা এ ধরণের কাজের পেছনে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক উস্কানিকে দায়ী করেছেন। এ ধরণের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনো ধর্মবিশ্বাসের যোগসূত্র নেই বলে এই নেতারা দাবি করেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাই সরকারি কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কাজ করার পেছনে দায়ী। কেননা অপরাধীরা অপরাধ করেও দায়মুক্ত থেকে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ জনগণও তাদের অধিকার দাবি করতে পারছে না।








