যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড নেশন্স হিউম্যান রাইটস’ এর সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে ভরা প্রতিবাদে সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
ইউএনএইচআর-এর ফেসবুক পেইজে দুই কুখ্যাত মানবতাবিরোধীর ছবি দেয়া পোস্টে ঘৃণা-ও ধিক্কার জানাচ্ছেন ক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে জাতিসংঘের এমন বিতর্কিত অবস্থান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন: ‘তবে কি জাতিসংঘ মানবতাবিরোধীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে?’
মানবতার দোহাই দিয়ে দোষ যতোই হোক নিজামী-কাসেমের মতো যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড চায় না বলে ফেসবুক পোস্টে লিখেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা।
তবে তাতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাচ্ছে না।
ঔদ্ধত্যপূর্ণ ওই পোস্টে বেশ কয়েকজন ক্ষুব্ধ তরুণ জানতে চেয়েছেন, ‘বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশেও অন্যান্য ফৌজদারী অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সেসব বিষয়ে কথা না বলে আলাদা করে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য এই মায়াকান্না কেনো?’
এর পেছনে একটি বিশেষ রাষ্ট্রের মদদ আছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন কেউ কেউ। অনেকেই মন্তব্য করেছেন: ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা চলছে সৌদি আরবের নেতৃত্বে। আর সৌদি আরব বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে আসছে। দু’য়ে-দু’য়ে চার মিলে গেছে’।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল, বিচারিক ব্যবস্থা, আপিলের সুযোগ নিয়ে ইউএনএইচআর প্রশ্ন তোলায় পাল্টা অভিযোগ তুলছেন বেশ কয়েকজন।
তাদের মন্তব্য: ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নাৎসিদের বিচারে যে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের কথা বিশ্বব্যাপী সগর্বে প্রচার করা হয় সেই বিচারে অভিযুক্তের আপিলের সুযোগই ছিলো না, অথচ বাংলাদেশে নৃশংসতায় পশুকে হার মানানো যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির পরও আপিল করার সুযোগ মিলছে।’
জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থার এমন কর্মকাণ্ডে অনেকেই হতবাক হয়ে জানতে চেয়েছেন, এটা রসিকতা কি না!
গতকাল ৮ এপ্রিল নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে নিজামী-কাসেমের ছবি দেয়া একটি পোস্টে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউএনএইচআর। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে শুধু বিরোধী নেতাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে বলে ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো শুরু হয়।এখন পর্যন্ত বিতর্কিত পোস্টটিতে ৮’শরও বেশি মন্তব্য এসেছে, শেয়ার হয়েছে ৭৯১ বার।







