মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে নিখোঁজের ৩দিন পর পুকুর থেকে শিশু শ্রেণিতে পড়ুয়া ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর তার শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ফেলে দেয়া হয় বাড়ির পাশের পুকুরে।
ঘাতক সাব্বির হত্যার দায় স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে, বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিরাজদিখান ইউনিয়নের রশুনিয়া গ্রামের ব্যাঙ্গ দিঘী নামক পুকুরের কচুরিপানার নীচ থেকে ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিশু ফাতেমা উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব রশুনিয়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং রশুনিয়া মাহমুদিয়া নূরানীয়া মাদরাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব রশুনিয়া গ্রামের বাড়ির পাশে ওয়াজ মাহফিলে এসে ফাতেমা আক্তার নামে ওই ছয় বছরের শিশু কন্যা নিখোঁজ হয়।
মঙ্গলবার রাতে রশুনিয়া গ্রামের পূর্বপাড়ায় ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানসহ আইসক্রিম বিক্রি করার জন্য বসে ওই ইউনিয়নের উত্তর তাজপুর গ্রামের নাহিদ খানের ছেলে সাব্বির খান (২৫)। সাব্বির খান শিশু ফাতেমাকে আইসক্রিম খাওয়ান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বুধবার দুপুরে সন্দেহজনকভাবে আইসক্রিম বিক্রেতা সাব্বির খানকে আটক করে সিরাজদিখান থানায় পুলিশের কাছে দেন।
এ ঘটনায় বুধবার ফাতেমার মা বিলকিস বেগম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। মামলায় ঘাতক সাব্বিরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে ঘাতক সাব্বির।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, শিশু ফাতেমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ ফেলে দেয়া হয় পাশের একটি ডোবায়। ঘাতক সাব্বিরের তথ্যমতে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে তাজপুর গ্রামের ব্যাঙ্গ দিঘী পুকুর থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ।
তিনি আরও জানান,মঙ্গলবার রাতেই ফাতেমাকে হত্যা করা হয়। নিহত শিশুর মা বিলকিস বেগম বুধবার বাদী হয়ে আইসক্রীম বিক্রেতা ঘাতক সাব্বিরকে আসামি করে মামলা করেন। সাব্বিরকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চাইলে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ননা দেয় আসামি সাব্বির।







