নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের চর নঙ্গোলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে নিখোঁজের প্রায় ৪ মাস পর আহত ও মূমুুর্ষ অবস্থায় এক কিশোরীকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধারের পর কিশোরীকে সোমবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় জেলা শহর মাইজদী থেকে সুমন, সাহাবুদ্দিন, রিনা,আলেয়া নামে ৪ জনকে আটক করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।
উদ্ধারকৃত কিশোরী হাতিয়া উপজেলার চর নঙ্গেলিয়া গ্রামের এনায়েত উল্যার বাহারের মেয়ে।
কিশোরীর মা সামছুন নাহার বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে প্রতিবেশী জামাল উদ্দিনের মেয়ে রিনা আক্তার তার মেয়েকে কাজ দেয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। পরে রিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সামছুন নাহারের মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।
জানা যায়, নিখোঁজের কয়েকদিন পর অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করলেও মেয়েটির সন্ধান আর পাওয়া যায়নি।
পরে গত রোববার অজ্ঞাত এক ব্যক্তি টেলিফোনে উদ্ধারকৃত মেয়েটির অবস্থান সম্পর্কে অবগত করলে, রাতে পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের নিচ থেকে মূমুর্ষ অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে নোয়াখালী নিয়ে আসে।
উদ্ধারকৃত মেয়েটি জানান, গত ৪ মাস রিনার মামী আলেয়া আক্তার তার মাইজদী বাসায় রেখে তাকে মারধর করে। কখনো ব্লেড দিয়ে পুরো শরীরে ক্ষত করা হয়েছে, কখনো গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়েছে, কখনো শরীরে এসিড দিয়ে পুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল রোববার রাতে একটি গাড়ী করে তাকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট ব্রিজের কাছে নিয়ে লাথি দিয়ে ফেলে আসে, আর বলে তুই মর।
এই বিষয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার শ্যামল কুমার দেবনাথ জানান, ভিকটিম ও পরিবারের তথ্যমতে, তার শরীরে এসিড বা ক্যামিকেল জাতীয় দ্রব্য নিক্ষেপ করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত রয়েছে। তাই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভিকটিমকে ঢাকা স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিমকে দেখে এসেছেন। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে সুমন, সাহাবুদ্দিন, রিনা,আলেয়া নামে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







