নাম ও ঠিকানা পেয়েছে রাজধানীর পুরনো বিমান বন্দর এলাকা থেকে কুকুরে কামড়ে আহত শিশুটি। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আশ্রয়কেন্দ্র ‘ছোটমনি নিবাসে’ যাচ্ছে শিশুটি। ঠিকানা পাওয়ার পর ছোট্ট শিশুটির নামও রাখা হয়েছে ফাইজা। যার অর্থ বিজয়িনী। এত বড় সংগ্রাম লড়াই করে জীবন ফিরে পাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটির নাম রেখেছে ফাইজা।
জন্মের পর শিশুটিকে ফেলে রাখা হয় বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায়। কুকরের কামড়ে আহত হওয়া শিশুটিকে স্থানীয় কয়েকজন উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর নবজাতকদের জন্য বিশেষ পরিচর্যা ব্যবস্থা ‘স্কাবুতে’ রাখা হয় শিশুটিকে।
নবজাতক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার আবিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের চিকিৎসক দল শিশুটিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। কোনো স্বজন না থাকায় ২৭ দিন পর শিশুটিকে সরকারের ‘ছোটমনি নিবাসে’ পাঠানোর আয়োজন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের নবজাতক বিভাগীয় ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, শিশুটি সুস্থ করার সাফল্য মেডিকেল বোর্ডের। বোর্ড সবসময় সর্বাত্মাক চেষ্টা করেছে আহত এই শিশুটিকে সুস্থ করার জন্য। আজ তা সম্পূর্ণ হয়েছে। শিশুটি এখন পুরোপুরি সুস্থ।
ছোটমনি নিবাসের উপ-তত্ত্বাধায়ক সেলিনা আকতার বলেন, ফাইজার মতো অনেক শিশু ছোট নিবাসে বড় হচ্ছে। একসঙ্গে সব শিশুকে ঠিক মতো যত্ন করতে একটু হিমশিম খেলেও শিশুদের প্রতি তারা সবসময় খেয়াল রাখেন।
তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান জানালেন, ‘ছোট্টমনি নিবাস’ থেকে যদি কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে দত্তক চাইলে আইনী প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে শিশুটির দায়িত্ব নিতে পারবে।
এদিকে আহত ফাইজার চিকিৎসার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শিশুটিকে বিনামূল্যে প্লাস্টিক সার্জারি চিকিৎসা দেবে ঢাকা মেডিকেলের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ। তিন মাস থেকে দেড় বছর বয়স পর্যন্ত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে শিশুটিকে।






