রেজাউল করিম রেজা, নাটোর: নাটোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার সাড়ে ৪ ঘন্টার মধ্যে একজন নারীসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত রাতে শহরের হাফরাস্তা এলাকায় একটি বাড়িতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন নাটোর শহরের কানাইখালী মহল্লার আফজাল হোসেনের ছেলে রনি মিয়া, মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে রকি এবং আব্দুল মজিদের ছেলে সোহান। এছাড়া এ ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে শহরের হাফরাস্তা থেকে মৃদুল হোসেন এবং তার স্ত্রী মিথিলা পারভীনকে আটক করা হয়েছে। নাটোর সদর থানার এসআই জামাল উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাটোর সদর থানার এসআই জামাল উদ্দীন জানান, আমরা ধর্ষিতার অভিযোগ পাওয়ার পর পরই অভিযানে নামি। ঘটনার পর পরই শহরের হাফরাস্তা থেকে দুই সহযোগী এবং নাটোর সদর উপজেলার তেলকুপি নূরানীপাড়া থেকে তিন ধর্ষককে আটক করা হয়। তিন র্ধষক শহরের চিহিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও ভিকটিম সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর বিনোদপুর থেকে আবির (২১) নামের এক দোকান কর্মচারী তার এসএসসি পরিক্ষার্থী প্রেমিকাকে নিয়ে নাটোর আসেন বিয়ে করার উদ্দেশ্য। পরে স্থানীয় এক বন্ধু বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শহরের হাফরাস্তা এলাকায় মৃদুল ও মিথিলা দম্পতির বাসায় নিয়ে যান। এই দম্পতি সেসময় রনি, রকি ও সোহানকে ডেকে নিয়ে আসে।
বাসায় প্রবেশের পর তারা দলবদ্ধভাবে ঐ ছাত্রীকে গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে তাদের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবে বলে ভয় দেখায়। পরবর্তীতে ধর্ষিতা এবং তার প্রেমিক ছাড়া পেয়ে রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে নাটোর থানায় গিয়ে অভিযোগ করে।
ঘটনার খবর পেয়ে সক্রিয় হয় নাটোর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতেই মিথিলা ও মৃদুলকে শহরের হাফরাস্তা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে আটক করা হয়। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার ভোররাতে সদর উপজেলার তেলকুপি নুরানীপাড়া থেকে তিন ধর্ষককে আটক করে। জড়িত অন্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নাটোর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।








