নাইন ইলেভেনের অভিঘাতে জর্জর বিশ্ব রাজনীতি

Twin towers engulfed in flames and smoke during the September 11 attacks in New York City. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ১৯ বছর আজ। ১৯ বছর আগে ২০০১ সালের এ দিনে টুইন টাওয়ারে ইতিহাসের বিভীষিকাময় আত্মঘাতী বিমান হামলা চালায় জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদা। ওই হামলায় নিহত হয় প্রায় ৩ হাজার মানুষ। এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আল কায়েদাকে অভিযুক্ত করে।
১৯ জন আত্নঘাতী হামলাকারী এবং ৪টি বিমান। ৪টি বিমানের দু’টির লক্ষ্য ছিল নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ও দক্ষিণ টাওয়ার। অন্য একটি আঘাত করে পেন্টাগনে, যার অবস্থান ওয়াশিংটনের বাইরে আর চতুর্থ বিমানটি আছড়ে পড়ে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকাল। সেদিনের আবহাওয়া ছিল চমৎকার। মানুষ ধীরে ধীরে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। সকাল ৮:৪৫ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৬৭ বিমানটি প্রায় বিশ হাজার গ্যালন জেট ফুয়েল নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত করে। এটি ছিল ১১০ তলা ভবন যার ৮০ তলায় বিমান আঘাত করে। নাইন-ইলেভেনের প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন আল-কায়েদার সদস্য খালিদ শেখ মোহাম্মদ। তিনি পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৩ সালের মার্চে রাওয়ালপিন্ডি থেকে সিআইএ ও আইএসআইয়ের যৌথ অভিযানের সময় গ্রেফতার হন তিনি। এ হামলা চালানোয় আল-কায়েদার অন্যতম ভরসা ছিলেন মোহাম্মদ আতা নামের এক মিসরীয়। ধারণা করা হয়, নাইন-ইলেভেনের হামলার অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। মোহাম্মদ আতা নাইন-ইলেভেনের হামলায় ব্যবহৃত আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট-১১-এর চালকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু হয়। ইরাক আফগানিস্তানে ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদা নির্মূল অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরাকে সাদ্দাম হোসেন ও আফগানিস্তানে মৌলবাদি তালেবানদের ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানের যুদ্ধের সঙ্গে নাইন ইলেভেন নিয়ে বিতর্কও সমান তালে চলছে। মাঠ পর্যায়ের লড়াই প্রায় থেমে গেলেও বিতর্কিত যুদ্ধ থামবে কিনা তা বলা যায় না।
২০০১ থেকেই বিশ্বে আল-কায়েদার উত্থান ঘটতে থাকে। ইউরোপ-আমেরিকাজুড়ে একের পর এক হামলা চলতে থাকে। আল-কায়েদার আগ্রাসন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বহু সংগ্রাম করেছে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সৌদি, কুয়েতে খুঁজে খুঁজে লাদেনের সহকর্মীদের হত্যা করেছে। মার্কিন ইন্টেলিজেন্সের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনের একটি গুপ্তাশ্রয়ের সন্ধান পায়। বারাক ওবামার নির্দেশে চৌকস নেভি সিল টিম সিক্স অপারেশন নেপচুন স্পিয়ারের মাধ্যমে ২০১১ সালের ২ মে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মত ক্ষমতাশালী দেশে এইরকম সফল হামলা বিশ্ববাসীকে সেদিন বিস্মিত করেছিল। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশে দেশে সামরিক আগ্রাসন চালাতে থাকে। যা আজও বিদ্যমান। বিশ্ব রাজনীতিতে নাইন ইলেভেনের হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। যা বদলে দিয়েছে বিশ্বের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহসমূহকে।






