সকল দেশকে নর্থ কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নর্থ কোরিয়ার সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই আহ্বান জানায়।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি বলেন: চীনা প্রেসিডেন্টকে পিয়ংইয়ং-এ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চায় না। কিন্তু যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে নর্থ কোরিয়া সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে।
বুধবার নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হোয়াসং-১৫ পরীক্ষার কথা জানায় নর্থ কোরিয়া। দেশটির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৪ হাজার ৪৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতায় উঠতে পারে, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের উচ্চতার চেয়েও দশগুণ বেশি। এছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্রটি এমন ওয়ারহেড বহন করতে পারবে, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশে সক্ষম।
যদিও এই দাবি এখনও প্রমাণিত নয়। বিশেষজ্ঞরা দেশটির এই ধরণের প্রাযুক্তিক দক্ষতা অর্জনের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের কাছে পড়ার আগে ৫৩ মিনিট ধরে আকাশে ওড়ে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর কিম জং উন ঘোষণা দেন, তার দেশ এখন পরিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তির অধিকারী হয়েছে। একে ‘নিখুঁত’ এবং ‘বিশাল সাফল্য’ হিসেবে অবিহিত করেন তিনি।
পিয়ংইয়ং এক বিবৃতিতে জানায়, হোয়াসং-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র বিশাল আকারের ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের সব জায়গায় আঘাত হানতে পারে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী নীতি ও পরমাণু হুমকি মোকাবেলার জন্যই পিয়ংইয়ং পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইউনিয়ন অব কনসার্ন্ড সায়েন্টিস্ট নামে একটি গ্রুপ জানায়, মিসাইলটি ১৩হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল ম্যাটিস বলেন, এ যাবত কালের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একে পুরো বিশ্বের জন্য ঝুঁকি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এর পরপরই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডাকে।

হ্যালি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘অব্যাহত আগ্রাসী মনোভাব’ (নর্থ কোরিয়ার) এই অঞ্চলকে শুধুমাত্র আবারও অস্থিতিশীল করে তুলবে।
পিয়ংইয়ংকে তার মিসাইল এবং পরমাণু পরীক্ষা বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার অ্যাম্বাসেডর ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া। পাশাপাশি সাউথ কোরিয়ার সাথে সামরিক মহড়া বাতিলের জন্য ওয়াশিংটনের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি। এই মহড়াটি ডিসেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে, যা ‘বিস্ফোরণমুখর পরিস্থিতিকে আরও খারাপ’ করতে পারে বলে শঙ্কা রাশিয়ার।
চীনও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া স্থগিতের বিনিময়ে নর্থ কোরিয়াকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের পরামর্শ দেয়। যদিও এমন প্রস্তাব অতীতেও ওয়াশিংটন প্রত্যাখান করেছে।
চীনকে আরও কিছু করার আহ্বান জানিয়ে নিকি হ্যালি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোন করে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ায় তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
“আমরা জানি তাদের পরমাণু উৎপাদনের প্রধান চালিকশক্তি তেল। আর এই তেলের প্রধান সরবরাহকারী চীন।”
চীন নর্থ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় মিত্র। একই সাথে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার। নর্থ কোরিয়া তার অধিকাংশ তেল প্রাপ্তির জন্য চীনের উপর নির্ভরশীল বলেও মনে করা হয়।
বুধবারের আগেও শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্প টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানায় হোয়াইট হাউজ। তখন নর্থ কোরিয়াকে উস্কানি বন্ধে এবং ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের’ পথে ফেরার ব্যাপারে রাজি করাতে চীনকে সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যার জবাবে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কোরিয়ান উপকূলকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করা বেইজিংয়ের অবিচল লক্ষ্য বলে ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করেন শি জিনপিং। এমনটি জানায় চীনা সংবাদ সংস্থা জিনহুয়া।
এছাড়াও মিসৌরিতে কর সংস্কার বিষয়ে বক্তব্যের সময় ট্রাম্প কিমকে আবারও কটাক্ষ করেন। কিমকে একজন ‘দাম্ভিক অসুস্থ লোক’ এবং ‘লিটল রকেট ম্যান’ বলে অভিহিত করেন তিনি।







