নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে তরুণী হেনস্তার ঘটনার ১২ দিন পর অভিযান চালিয়ে হেনস্তাকারী ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্প।
রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকার একটি আত্মীয়বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌহিদুল মবিন খান।
তিনি জানান, ঘটনার দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্টেশনটির ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওই নারী তরুণীটিকে পোশাক নিয়ে গালিগালাজ, মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন এবং মুঠোফোনে ছবি তুলেন। গ্রেপ্তার ওই ৬০ বছর বয়সী নারী পেশায় একজন ঘটক ও শহরের উপজেলা মোড়ের বাসিন্দা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই নারীকে শনাক্ত করে মামলার আসামী করা হয়।
এর আগে গত ১৮ মে, বুধবার ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ওই তরুণী ও দুই তরুণ। ভোর পৌনে ছয়টা পর্যন্ত স্টেশনটির ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তারা ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সাড়ে পাঁচটার দিকে স্টেশনে অবস্থানরত ওই নারী তরুণীকে হেনস্তা করেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণীকে ঘিরে রেখেছে একদল ব্যক্তি। এর মধ্যেই একজন নারী উত্তেজিত অবস্থায় তার সঙ্গে কথা বলছেন। বয়স্ক এক ব্যক্তিও কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হলে ওই নারী দৌড়ে তাকে ধরে ফেলেন। তার পোশাক ধরে টান দেন ওই নারী। নিজেকে সামলে দৌড়ে স্টেশনমাস্টারের কক্ষে চলে যান তরুণী। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দুই তরুণকেও মারধর করা হয়। তারাও দৌড়ে স্টেশনমাস্টারের কক্ষে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী তরুণী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ রেলস্টেশনে গিয়ে তাদের ঢাকার ট্রেনে উঠিয়ে দেয়।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর থেকেই ওই নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিলাম আমরা। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ হতে শুরু করলে তিনি উপজেলা মোড়ের বাসা পরিবর্তন করেন। বাসা পরিবর্তনের পাশাপাশি মুঠোফোন নম্বরও পরিবর্তন করেন তিনি। একটু সময়ের জন্য মুঠোফোন খোলা রেখে আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য তা বন্ধ রেখেছেন। ব্যবহার করছেন কমপক্ষে তিনটি সিম। বারবার তার স্থান ও মুঠোফোন নম্বর পরিবর্তনের কারণে তাকে গ্রেপ্তারে সময় লেগেছে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে আমরা জানতে পারি, তিনি শিবপুরের ইটাখোলায় এক আত্মীয়বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন। পরে রাত ৩টার দিকে র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌহিদুল মবিন খানের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায়। ওই সময় তাকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়।
জানতে চাইলে র্যাব-১১ নরসিংদী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌহিদুল মবিন খান জানান, গ্রেপ্তার নারীকে আজই র্যাবের সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বিষয়ে পরবর্তী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে তরুণী হেনস্থার ঘটনার দুইদিন পর শুক্রবার রাতে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে মো. ইসমাইল নামের আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে ভৈরব রেলওয়ে থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলে পরের দিন শনিবার বিকেলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান এবং এই ঘটনায় মামলা করার নির্দেশ দেন। ওই রাতেই ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি করা হয়।








