নরসিংদীতে জঙ্গি বিরোধী অভিযান পরবর্তীতে আত্মসমর্পণকারী ২ জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে, যাদের একজন আবু জাফর। অভিযান চলাকালীন সময়ে এই আবু জাফরের ফেসবুকের টাইমলাইনে বাঁচার আকুতি দেখা যায়।
শনিবার নরসিংদীর উত্তর গাবতলী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। ১৮ ঘন্টার দীর্ঘ অভিযান শেষে আত্মসমর্পন করে ৫ যুবক। এদের মধ্যে ৩ জনকে পরবর্তীতে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর দুই যুবক সালাউদ্দিন ও আবু জাফরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দীর্ঘ ১৮ ঘন্টার সেই অভিযানের সময় আবু জাফর ফেসবুক ৩টি স্ট্যাটাস দেয়, সেগুলো দেখে নেয়া যাক: (স্ট্যাটাসগুলো সর্বশেষ ক্রমে সাজানো)
মাননীয়া প্রধানমনত্রী,আমাদেরকে বাচান। আমরা নিরপরাদ। আমরা আওয়ামী কর্মি। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। প্লিজ আমাদেরকে বাচান। আমরা সাধারণ ছাত্র। প্লিজ আমাদেরকে উদ্ধার করুন। প্লিজ প্লিজ প্লিজ।

সাংবাদিক স্যার ও আইনশৃংলাবাহিনী স্যারদের উদ্দেশ্য করে বলছি,আমরা নিরপরাদ। আমরা কখনও শিবির,জংগিবাদ সম্পর্কে ভাল করে জানিও না। প্লিজ আপনারা আমাদের সার্চ করুন। দেখুন কিছু পান কিনা। আমরা নিরপরাদ। বাইরে থেকে আমাদের সিটকানি লাগানো।প্লিজ সিটকানী খুলে আমাদেরকে উদ্ধার করুন।

আমরা অপরাধী না। আমাদেরকে আত্নসমর্পন এর মাধ্যমে হলেও সার্চ করা হউক। যদি কোনোকিছু পাওয়া যায় আমরা সকল অপরাধ মেনে নেব। প্লিজ আমাদেরকে উদ্ধার করুন।

শনিবার নরসিংদীর উত্তর গাবতলী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দুবাই প্রবাসী মইন উদ্দিনের বাড়িটি ঘেরাও করে র্যাব-১১ সদ্যসরা। নাশকাত ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঘিরে রাখা বাড়িটির আশপাশের বাসিন্দাদের সড়িয়ে দেয়া হয়। জারী করা হয় ১৪৪ ধারা। দীর্ঘ ১৮ ঘন্টা অভিযান চালানোর পর রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ীটিতে অবস্থানরত ৫ যুবক আত্মসমর্পন করেন।
আত্মসমর্পনের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব-১১ কার্যালয়ে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জঙ্গি সংস্লিষ্টতা না পাওয়ায় নরসিংদী সদর উপজেলার চরভাসানিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে বাছিকুল ইসলাম, গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে মাসুদুর রহমান ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকার মশিউরকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
রবিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যার-১১’র সিনিয়র এএসপি আলেক উদ্দিন।








