বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে ওবায়দুল হাসান সরে যাওয়ার পর নতুন প্রধান বিচারপতি হলেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
এতদিন হাইকোর্টের বিচারপতি থাকা সৈয়দ রেফাত আহমেদকে সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শনিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দিয়েছেন। শপথের তারিখ থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
সৈয়দ রেফাত আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ডিগ্রী অর্জন করেন পরে যুক্তরাজ্য থেকে বিএ ও এম এ ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রীও নেন। ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে, ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হন।২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পাওয়ার দুই বছর পর সৈয়দ রেফাত আহমেদ হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হন।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ও সপ্রিম কোর্টের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের ছেলে।
এদিকে বৈশ্বম্যবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শনিবার ঘটনাবহুল দিনে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি পদত্যাগ করেন। সর্বোচ্চ আদালতের যে ছয়জন বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন তারা হলেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন। তবে আপিল বিভাগের অপর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
শনিবার বেলা ১১টা থেকে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জড়ো হন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এসময় বিভিন্ন শ্লোগান উত্তাল হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল শ্লোগানের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের বিষয়টি জানান আইন উপদেষ্টা। এরপর একে একে আপিল বিভাগের অপর বিচারপতিদের পদত্যাগের খবর আসে।








