ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছা থাকলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে বিভিন্ন একাডেমিতে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, এমনকি উপজেলা পর্যায়েও ক্রিকেটার তৈরি করতে গড়ে উঠছে একাডেমি। সেখানে প্রতিভার ছাপ রেখে পরবর্তীতে বয়সভিত্তিক দল এবং ক্লাব ক্রিকেট খেলার উদাহরণ অগনিত।
সেরকম প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াচ্ছে একাডেমি কাপ। দুই সপ্তাহব্যাপী টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ঢাকা মেট্রোর ৩২টি একাডেমি।
রোববার সকালে মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেবে অঙ্কুর ক্রিকেট একাডেমি ও ক্লেমন ইন্দিরা রোড ক্রিকেট একাডেমি।
টুর্নামেন্ট সেরা চার দলকে দেয়া হবে আর্থিক সহায়তা। বাছাইকৃত সেরা ক্রিকেটারদের সুযোগ দেয়া হবে বিসিবির বয়সভিত্তিক দলে। টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ক্রিকেটাররা।
শনিবার মিরপুরের একাডেমি ভবনের সামনে হয়ে গেল টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান। অংশগ্রহণকারী তরুণ ক্রিকেটাদের উৎসাহ যোগাতে ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, সাবেক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদর রফিক, সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির গেম ভেভলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ সুজন।
একাডেমি কাপ নিয়ে যা বললেন মাশরাফী
‘খুব ভলো একটা উদ্যোগ। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ, বিশেষ করে বিসিবির ডেভেলপমেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ, সুজন ভাইকে ধন্যবাদ। সাধারণত এ ধরনের টুর্নামেন্ট দেখা যায় না এবং এটা সম্ভবত ঢাকা লিগে যারা খেলেছে তারা সুযোগ পাবে না। ঢাকা লিগের বাইরের প্লেয়ারদের জন্য এটা বড় একটা সুযোগ। আশা করি তারা এখানে ভালো করলে বিভিন্ন ক্লাব থেকে শুরু করে বিসিবির আন্ডারে বিভিন্ন জায়গায় সুযোগ পেতে পারে। যারা খেলতে পারেনি, তাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ।
‘যত বেশি টুর্নামেন্ট হবে, যত বেশি খেলা হবে তত প্লেয়ার উঠে আসবে। এখন তো বিসিবির অধীনে বেশির ভাগ টুর্নামেন্ট শেষ, হয়তো দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগ বাকি আছে। এর বাইরেও একটা টুর্নামেন্ট যারা খেলছে তাদের জন্য এই উদ্যোগ। তারা যদি নিজেদের এক্সপ্রেস করতে পারে তাহলে কোনো ক্লাব বা বিসিবির অধীনে দলে সুযোগ পেতে পারে।’
খালেদ মাহমুদ সুজনের কথা
‘মাশরাফী আগেই বলল, এখানে ঢাকা লিগ খেলে তারা খেলতে পারবে না। তার মানে নতুনরা সুযোগ পাবে। সেটার জন্য এটা পাইলট প্রজেক্ট। এই বছর মাত্র ৩২টি দল নিয়ে খেলছি। এর বাইরেও অনেক একাডেমি আছে ঢাকায় যারা সুযোগ পাচ্ছে না। এর কিছু কারণও আছে।আমরা যেসব ক্রাইটেরিয়া দিয়েছিলাম, যারা মিট করতে পেরেছে তারাই সুযোগ পাচ্ছে।
‘সামনের বছর আমাদের প্ল্যান আছে আরও বড় করে করার। আবার এখন বর্ষা মৌসুম। তার ওপর মাঠও কম। আমরা আশা করি পরের বছর অন্যদের খেলার মাঝে মাঝে আমরা যাতে এটা করে ফেলতে পারি। আশা করি, এখান থেকে অনেকে উঠে আসবে। বাবা-মা যাদের একাডেমিতে পাঠাচ্ছে ক্রিকেট শেখার জন্য তাদের জন্যও একটা বড় অনুপ্রেরণা। পরের বছর ঢাকার বাইরে থেকে দুইটা বা চারটা করে একাডেমিকে দাওয়াত দেব। ঢাকার বাইরে এটা করব না। এখান থেকে আমরা প্লেয়ার বাছাই করব। সেটা ২০-২৫ জন হতে পারে। সেখান থেকে অনুশীলনের ব্যবস্থা করব। সাথে যে চারটা একাডেমি সেমিফাইনালে খেলবে তাদের বিসিবি থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করব। প্রতি বছর চারটা করে করতে পারলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০-২৫টি একাডেমি এই সাহায্য পাবে। সব মিলে একটা তৃণমূল থেকে ডেভেলপমেন্ট যেটা বোঝায় সেটাই করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
মোহাম্মদ রফিক
‘সত্যি কথা, সবার আগে বোর্ডকে ধন্যবাদ দেব এরকম একটা আয়োজনের জন্য। এটা বাংলাদেশে প্রথম। আজ ঢাকাতে অনেক একাডেমি, কিন্তু সুযোগ পাচ্ছিল না বাচ্চারা। এটা সুযোগ করে দিল। আপনার-আমার ছেলেরা যারা ভালো খেলে সেটা তুলে ধরার একটা সুযোগ। একদম নতুন প্লেয়ার এখান থেকে আসবে। এখন ৩০-৩৫টা আছে, সামনে আরও বাড়বে। আমি মনে করি, এখান থেকে অনেক প্লেয়ার আসবে যারা বাংলাদেশের দলের জন্য কাজে দেবে।’







