এটিই হয়তো এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে খারাপ চিত্রনাট্য। দ্বিতীয় রাউন্ডের যাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিজেদের ওপর নির্ভর করতে পারছে না আর্জেন্টিনা।
মেঝেতে লুটিয়ে আর্জেন্টাইনদের মানসিকতা এবং পুরো দলের মধ্যও সেটা স্পষ্ট। পেনাল্টি মিস করা বিধ্বস্ত মেসির ফ্রি-কিকগুলো উড়ে যাচ্ছে ক্রসবারের উপর দিয়ে।
একের পর এক ভুল করছেন সার্জিও আগুয়েরো এবং মাঠের বাইরে রাগে ফাটছেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলির উপর। সবকিছুর জন্য বর্তমান স্কোয়াডকে দুষছেন সাবেকরা।
ভক্তরা হতাশ হয়ে পড়েছেন এবং কোচ প্রায় প্রতিদিনই দলে বিভ্রান্তি ঘটিয়ে যাচ্ছেন। দলের শুরুর একাদশ কেমন হবে সে ব্যাপারে কেউই কিছু জানেন না।
উইলি কাবায়লেরো একটা বিশাল ভুল করেছেন। তাই সবাই ফ্রাঙ্কো আরমানিকে দলে চাচ্ছেন। সব খেলোয়াড়ের দিকেই সমালোচনার তীর ছুটে আসছে আগুনের ফুলকির মতো।
হাভিয়ের মাশ্চেরানো অনুপস্থিত (ফর্মে) এবং ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কোস রোহো অভিযোগ করেন তিনি শুরুর একাদশে নেই।
ডিয়েগো সিমিওনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ অডিও প্রকাশে অনেকেরই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা যোগ হয়েছে। যেখানে জাতীয় দলের মধ্য কি সমস্যা হচ্ছে তার একটি নিখুঁত বিশ্লেষণ দিয়েছেন অ্যাটলেটিকো কোচ। তার এই বার্তায় আছে দলের অশান্তির ইঙ্গিতও।
অনুশীলনের পরিবেশও এখন পর্যন্ত ভালো না। অপরিমেয় চাপ এরই মধ্য অনেক খেলোয়াড়কে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। বিশ্বকাপের পর কোচ সাম্পাওলির পদত্যাগ বা ছাটাই মনে হচ্ছে অবশ্যম্ভাবী।
এত কিছুর পরও, আর্জেন্টিনার এখনও শেষ ১৬তে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
‘৯০ মিনিটের ফুটবলে অনেক কিছুই ঘটতে পারে, কারণ ফুটবলটা হচ্ছে ‘অবিশ্বাস্য এক গতিবিদ্যা’-কয়েক দশক আগে এমন উক্তিই করেছিলেন আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা ক্রীড়া সাংবাদিক দান্তে পঞ্জরি।
ওই সাংবাদিকের কথার সূত্র ধরেই বলা যায়, যতোক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কোচ সাম্পাওলির যে কৌশল এবং পুরো দলের যে অবস্থা তাতে নকআউটপর্বে গেলেও কি করবে এই আর্জেন্টিনা? সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।







