বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাসিকাল মিউজিক ফেস্টিভালের একটি ‘বেঙ্গল ক্লাসিকাল মিউজিক ফেস্টিভাল’। গেল পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত শাস্স্ত্রীয় সংগীতের এই অনুষ্ঠানটি রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে হয়ে আসলেও এবার ভেন্যু সংকটে পড়েছে আয়োজকরা। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই বিষয়ে আসছে ২২ তারিখে সংবাদ সম্মেলনের কথা বলেন।
অন্যদিকে দ্রুত ভেন্যু সংকট নিরসন করে শিগগির আর্মি স্টেডিয়ামেই শাস্ত্রীয় সংগীতের এই উৎসবটি আয়োজনের অনুরোধ করছেন দেশের সুর সংগীত পিপাসু মানুষ।
শাস্ত্রীয় সংগীতের এবারের উৎসবটির ভেন্যু সংকট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রীতিমত শোরগোল। বিশেষ করে উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসবে আর্মি স্টেডিয়াম বরাদ্দ না দেয়ার প্রতিবাদে ‘ধ্রুপদী সুরের বন্ধু’রা ইভেন্ট করে প্রতিবাদও জানান। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের সেনা প্রধানের শরণাপন্ন হন। শাস্ত্রীয় সংগীতের এই উৎসব নিয়ে তাদের কাছে দুটি অনুরোধ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ প্রসঙ্গে ‘ধ্রুপদী সুরের বন্ধু’দের-পক্ষে কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, শাস্ত্রীয় সংগীতের এই উৎসব ঠিক সময়ে যেনো অনুষ্ঠিত হতে পারে সে ব্যাপারটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে। যেনো ভেন্যুর বরাদ্দের মতো কারণে উৎসবস্থল দেশের বাইরে চলে না যায়। দেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনটি ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, দেশের সাংস্কৃতিক সুনাম ক্ষুন্ন না হয়।
বরাবরের মতো আর্মি স্টেডিয়ামেই যেন শাস্ত্রীয় সংগীতের সবচেয়ে বড় উৎসবটির ভেন্যু বরাদ্দ দেয়া হয় সেজন্য ‘ধ্রুপদী সুরের বন্ধু’দের থেকে সেনা প্রধানের কাছেও অনুরোধ জানানো হয়। সেনা প্রধানের উদ্দেশ্যে বলা হয়, আগের পাঁচটি আয়োজন ধারাবাহিকভাবে এই ভেন্যুতে হওয়ায় দেশের সুরপিপাসুরাও আর্মি স্টেডিয়ামে অভ্যস্ত হয়েছেন। যদি এই আয়োজনকে ঘিরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো গোষ্ঠির হুমকি থেকেই থাকে, তাহলে আমরা মনে করি আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর সে ক্ষমতা আছে, তাদের সেনানিবাস এলাকা বা প্রিমাইসের ভেতর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। আমাদের পক্ষ থেকে সেনাপ্রধানকে সুরের উৎসব নির্বিঘ্নে যেনো হতে পারে সে ব্যাপারে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করছি।
এদিকে উচ্চাঙ্গ সংগীত উৎসবের অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে ‘ধ্রুপদী সুরের বন্ধু’রা শুক্রবার(২০ অক্টোবর) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। কিন্তু সারাদিন টানা বৃষ্টির কারণে মানববন্ধন আয়োজিত হয়নি। এ বিষয়ে উদ্যোক্তা শিমুল সালাহ্উদ্দিন জানান, মানববন্ধনের সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেয়া হবে। মানববন্ধন করতে না পারলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাস্ত্রীয় সংগীতের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনুরোধ করেন তারা।







