শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে একটা ওয়ানডে জেতা অনেক সময় ভাগ্যের ব্যাপার হতে পারে। কিন্তু যখন দুটি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নস দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতে যায় সেটা তো অনেক বড় কিছু। বাংলাদেশ সেটাই করেছে। তবে তা শুধু ভাগ্যের উপর ভর করে হয় নি। এই জয়ে ছিলো টাইগারদের দক্ষতা ও আবেগের মিশেল।
এতো দিন যাদের ‘দুর্বল’ ভাবা হতো গত দুই মাসে সেই বাংলাদেশের কাছেই হেরে দক্ষিণ এশিয়ার দুই ক্রিকেট পরাশক্তি এখন নিরাশার রঙ-এ রঙ্গিন। টাইগারদের এই উত্থান আসলে ভারত-পাকিস্তানের জন্য সর্বনাশ। বাংলাদেশের উত্থান নিয়ে এনডিটিভি’র এক নিবন্ধে এমনই লিখেছেন সাংবাদিক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক শুভদেব চক্রবর্তী।
গত এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে এসে আর্তনাদ করতে করতে দেশে ফিরেছিলো পাকিস্তান। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর একমাত্র টি২০-তেও হেরেছিলো তারা। যার প্রভাবে পাকিস্তানের ক্রিকেটের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলেই মনে করেন অনেকে।
ওই হারের পর পাকিস্তানের সাবেকরা দলের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ নতুন অধিনায়ক আজহার আলীকে ছেঁটে ফেলার কথাও বলেছিলেন। তবে ওয়ানডে অধিনায়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দলের টেস্ট অধিনায়ক মিজবাহ-উল হক।
আজহার আলীর মতো একই রকম চাপে পড়েছেন ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। সিরিজ হারের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে ওয়ানডে-টি২০ মিলিয়ে দুটি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
পূর্ণ শক্তির দল নিয়েও র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের চেয়ে নিচের দলের কাছে হেরে সাবেকদের সমালোচনা শুনছেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’।
টেস্টে খেলা এবং অধিনায়কত্ব আগেই ছেড়েছেন ধোনি। এবার ওয়ানডে অধিনায়কত্বও হুমকির মুখে। অবস্থা বেগতিক দেখে নিজেই সরে যাওয়ার একরকম প্রস্তাব দিয়েছেন।
ভারতের পরাজয়ের জন্য ধোনির ব্যর্থতাকে দায়ী করলেও পুরো ব্যাপারটা খোলাসা হয় না। অধিনায়ককে তো সর্বোচ্চ দায় নিতেই হবে।
তবে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট এবং তার সমর্থকরা জেনে গেছে, ধোনি কিংবা মিজবাহ কিংবা আজহার কেউই আর এখন নিশ্চিত নয়। জয়ই আসলে সব কিছু, এখন বাংলাদেশ যেটা দেখাচ্ছে।
ক্রিকেট পুরোটাই মনস্তাত্ত্বিক খেলা। ঠিক সময়ে আসল খেলাটাই খেলেছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট একটা মহান সাম্যবাদী খেলাও। যার প্রমাণ ধোনি-মিসবাহ এখন অতীত, মাশরাফি নায়ক।






