ক্রিকেটটা এখনো ছাড়েননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটে আসছে রানও। তবে জাতীয় দলের দরজাটা বন্ধ অনেকদিন থেকেই। আবারও খুলবে কিনা সেই প্রশ্নে বিরাট একটা যতিচিহ্ন। যদিও শাহরিয়ার নাফীসের ক্রিকেটের সঙ্গে এগিয়ে চলায় ছাপ রাখতে পারেনি সেই চিহ্ন। মিরপুরে যখন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া লড়ছে, নাফীস বেছে নিয়েছেন অন্য ভূমিকা- ধারাভাষ্যকক্ষ মাতাচ্ছেন মাইক্রোফোন হাতে।
ধারাভাষ্যের কারণেই বাংলাদেশ দলের আশেপাশে আছেন নাফীস। সেটা না থাকলেও টাইগার-অজি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ এলে তার নামটা ঘুরেফিরে আসত অবধারিতভাবেই। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় শেন ওয়ার্ন, ব্রেট লি, জেসন গিলেস্পি, স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলদের শাসন করে এই বাঁহাতি ওপেনার খেলেছিলেন ১৩৮ রানের ঝলমলে এক ইনিংস। ১৯ চারের মধ্যে ১০টিই মেরেছিলেন ওয়ার্নকে। ১১ বছর পর ঘরের মাঠে মুখোমুখি যখন দুদল, নাফীস ধারাভাষ্যকক্ষে। তারই এক ফাঁকে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানালেন, এখনও মাঠই তাকে বেশি টানে। মাঠের কাজটাই বেশি সহজ মনে হয়।
খেলা ছাড়ার পর পুরোদস্তুর ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চান। অতিথি ধারাভাষ্যকার হয়ে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের কমেন্ট্রিবক্সে তারই মহড়া দিচ্ছেন। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনের চা-বিরতির সময় অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ধারাভাষ্য, ফতুল্লার সেঞ্চুরি, জাতীয় দলে ফেরা ও চলমান টেস্ট সিরিজ প্রসঙ্গ বললেন অনেককিছুই।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমবার ধারাভাষ্য দিচ্ছেন। কেমন অভিজ্ঞতা হল?
আমার কাছে মনে হয়েছে এটা ভবিষ্যতের জন্য ভাল কাজ হতে পারে। ক্রিকেট খেলেছি, এখনও খেলছি, আরও কিছুদিন খেলার পরিকল্পনা আছে। তবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে চাই। সেদিক থেকে এটা আমার জন্য একটা ভাল শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। চেষ্টা করছি খেলার বাইরে যে কাজ থাকে, বিশেষ করে ধারাভাষ্যে, ব্যাপারগুলো শিখে রাখতে। যাতে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারি।

গত এপ্রিলে ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপেও ধারাভাষ্য দিয়েছেন। এবার আন্তর্জাতিক ম্যাচে। পার্থক্য কতটা?
এটা একটু ভিন্ন। এখনও যেটা মনে হচ্ছে, ধারাভাষ্যের চেয়ে মাঠের কাজটাই সহজ। এদিক থেকে মাঠের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করি। এটা খেলার সঙ্গে জড়িত একটা অংশ মাত্র। চেষ্টা করছি শিখতে। যত তাড়াতাড়ি শিখতে পারব, তত তাড়াতাড়ি ভাল করতে পারব।
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে ফতুল্লার সেই ইনিংসটা নিশ্চয়ই মনে পড়ছে?
তখন বয়স কম ছিল। বলতে পারবে না ওটা পরিকল্পনা করে করেছিলাম। আসলে তেমন কোনও পরিকল্পনা ছিল না। সাধারণ একটা ভাবনা ছিল- বল দেখব, খেলব। নিজের সক্ষমতার উপর বিশ্বাস ছিল। নার্ভাসও ছিলাম কিছুটা। শেষ পর্যন্ত ওরকম একটা ইনিংস হয়ে গিয়েছিল। ক্যারিয়ারের পেছনের দিকে যখন তাকাই, দেখি, ওই ইনিংসটা আমার সেরা ইনিংস। যতদিন খেলব ওই ইনিংস থেকে উৎসাহ নেওয়ার চেষ্টা করব।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে চলেছেন। জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে নিশ্চয় ভাবেন?
দেখেন, এটা তো আমার হাতে নেই। আমি ফেরার জন্য লড়াই করে যাচ্ছি। এটা নির্বাচকদের ব্যাপার। আমার কষ্ট লাগা বা অন্যদের আবেগ, এসব দিয়ে এটা হবে না।

মিরপুর টেস্টে ফিরি। দুই সেশন হল। ৫ উইকেটে ১৯৫! কেমন খেলছে বাংলাদেশ?
সাকিব এবং তামিমের অসাধারণ একটা জুটি ছিল (১৫৫ রানের)। ১০ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর, ওরকম একটা জুটি বাংলাদেশ দলের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। সাকিব-তামিমের যেকেউ একজন থেকে গেলে বাংলাদেশ আরেকটু সুবিধাজনক অবস্থানে থাকত। এখন নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। দেখলে, অস্ট্রেলিয়াই একটু এগিয়ে।
বৃষ্টির কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। পুরো পাঁচদিনের খেলা হয়ত মাঠে গড়াবে না। ম্যাচটা কেমন হতে পারে?
খুবই ইন্টারেস্টিং একটা ম্যাচ হবে। উইকেটের যে কন্ডিশন, বোলারদের খুব সাহায্য করবে। আাশা করছি রেজাল্ট হওয়া ম্যাচ দেখতে পাব।
আগের অস্ট্রেলিয়া আর এই অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কী পার্থক্য দেখেন?
তখন যে দলটা ছিল, ওই সময়ের সেরা। এখন যে দলটা এসেছে, এই সময়ের সেরা। ১১ বছর পর আসলে দুইটা দলের মধ্যে তুলনা করা ঠিক হবে না। একটা কথা বলতে পারব, তখন যে অস্ট্রেলিয়া এসেছিল তারা ইতিহাসের সেরা একটা দল।
দেখুন ভিডিওতে:








