ভারতের প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু আশারাম বাপুকে পাঁচ বছর আগের একটি ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে যোধপুরের একটি আদালত।
এই মামলায় আশারামসহ মোট পাঁচজন অভিযুক্তের মধ্যে দু’জনকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে আদালত।
আইনজীবীদের ধারণা ৭৭ বছরের আশারামের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড মিলতে পারে।
বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৩ সালে মাকে ঘরের বাইরে বসিয়ে রেখে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল স্বঘোষিত গুরু আশারাম বাপুকে। এরপর ওই সালের সেপ্টেম্বরে ইন্দোরের আশ্রম থেকে ধরা পড়েন বাপু। ধর্ষণ, শ্লীলতাহানিতেও অভিযুক্ত তিনি।
৭৭ বছর বয়সী ধর্মগুরু ভারতজুড়ে ৪০০ টির মত আশ্রমে যোগব্যায়াম ও ধ্যান শিখাতেন। এই ধর্ষণ অভিযোগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে গুজরাট রাজ্যের আরেক ধর্ষণের মামলায় বিচারের সম্মুখীন হতে হবে শিগিরিরই।
রায়ের পর আশারাম বাপুর ভক্তরা যাতে যোধপুরে কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না-পারেন, তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তারও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যোধপুরে আদালত মামলার রায় পর সাজা জানাবেন বলে জানিয়েছেন। আশারাম চাইলে উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।
যৌন হয়রানির স্বীকার ওই কিশোরীর পরিবারের পক্ষের আইনজীবী উতসাভ বেনস এনডিটিভিকে বলেন, আমরা আশা করব এ ঘটনার জন্য আসারাম বাপুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক।
তবে এ ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়।
ভারতে এর আগেও ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের দায়ে পুলিশের কাঠগড়াতে ঠাঁই হয়েছে আরো অনেক বিকৃত রুচির ‘ধর্মগুরুর’। প্রথম সাজা পান আরেক স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাবা রাম রহিম।
যৌন নির্যাতনের দায়ে গত ২৪ মে উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির পুলিশ গ্রেপ্তার করে রাম শঙ্কর তিওয়ারি ওরফে বাবা পরমানন্দকে।
২০১৪ সালের নভেম্বরে ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে হরিয়ানার সন্ত রামপালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২০১২ সালের জুনে বেঙ্গালুরুর আশ্রম থেকে ধর্মগুরু নিত্যানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়।







