ধর্ম, রাজনীতি যার যার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবার। এই চেতনায় গতকাল ২৮ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় আলোকিত হয়ে উঠেছিলো জাতীয় নাট্যশালা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির থিয়েটার হল।
বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন, রাজনৈতিক দর্শন, স্বপ্ন ও সংগ্রাম, তাঁর বিভিন্ন সময়ের সংগ্রামী ছবি অঙ্কনে বাংলাদেশ লোকনাট্য দলের প্রযোজনায় এবং লিয়াকত আলী লাকী’র গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ‘মুজিব মানে মুক্তি’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়ছে।
ঐতিহাসিক এই নাট্য আখ্যান নির্মাণে লোকনাট্য দলের কর্মীরা দারুণ মুন্সিয়ানার পরিচয় রেখেছেন। শোকের মাস আগস্টকে স্মরণ করতে দলটির এ উদযাপনেও ছিল একটু ব্যতিক্রমী পরিবেশনা। শুরুতেই রাখা হয় ছোট্ট একটি আলোচনা সভা।
তারপর অসাধারণ আবেগ আশ্রিত কাব্যিক শিল্পের মধ্যদিয়ে শুরু হয় নাটক। একে একে উঠে আসে আবহমান বাংলার হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, শোষণ-বঞ্চনা, দ্রোহ ও স্বপ্ন বিনির্মাণের মুল কথা। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, তেইশ বছরের পাকিস্তানি অপশাসন, একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরে দেশ গঠন এবং তার মহাপ্রয়াণের ঘটনাগুলো দারুণভাবে মঞ্চে তুলে ধরা হয়।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব, কৈশোর, যৌবন, মহান সংগ্রামী জীবন ও মহাপ্রয়াণের দৃশ্যাবলী চমকপ্রদ কোরিওগ্রাফী ও আলোক প্রক্ষেপণে ফুটে ওঠে সবার সামনে। সম্পূর্ণ অডিও ট্রাকের উপর মঞ্চস্থ নাটকে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের ছিলো দারুণ শৈল্পিক শারীরিক কসরত। সবমিলে প্রতিটি দৃশ্যে দর্শকদেরকে নিয়ে যাচ্ছিল ইতিহাসের এক একটি প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু চরিত্রটি ছিল মুগ্ধ হবার মতই। দশর্কের জন্য নাটকের শেষ মুহূর্তটির ঘোর কাটানো ছিল বেশ কঠিন। বঙ্গবন্ধু চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘক্ষণ আঙ্গুল উচিয়ে রেখে যে প্রত্যয়ের মধ্যদিয়ে নাটকের সমাপ্তি ঘটল তা মনের মাঝে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়-“যেখানে ঘুমিয়ে আছো, শুয়ে থাকো বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রেমিক। তোমার সৌরভ দাও, দাও শুধু প্রিয় কণ্ঠ, সৌর্য আর অমিত সাহস।”
এ প্রসঙ্গে, বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় শিল্পী ও এ দলের অন্যতম কর্মী জিয়াউদ্দিন শিপন বলেন, এতো বড় চরিত্র নিজের মধ্যে ধারণ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ। নাটক শেষ হয়ে গেলেও এ চরিত্র থেকে বের হওয়া যায় না।
লোকনাট্য দলের প্রধান অধিকর্তা ও এই নাটকের স্বপ্নদ্রস্টা লিয়াকত আলী লাকী বলেন, সেই ষাটের দশক থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত ছিলেন। তারপর ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে যে দুর্যোগ নেমে আসে সেটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এ নাটকে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়েতো কতো ধরনের কাজ হচ্ছে তারপরও তাকে জেনে শেষ করা যায় না। এমন একটি চরিত্রকে মাত্র ৫০ মিনিটে নাট্যরূপে নিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। যেটি লোকনাট্য দল আন্তরিকতার সাথে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তাবৃন্দ কয়েকশ সুধীজনের সামনে জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরেন। আলোচক ছিলেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আতোয়ার রহমান ও রামেন্দু মজুমদার। লোকনাট্য দলের প্রধান অধিকর্তা লিয়াকত আলী লাকী।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, গ্রপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজামান। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে শুরু হয় নাটক।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ লোকনাট্য দল আধুনিক নাট্যমনস্ক দর্শকদের জন্য নিরলস স্পৃহা নিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নাটক উপহার দিয়েছে। এরমধ্যে ‘কঞ্জুস’, ‘সিদ্ধিদাতা’, ‘মাঝরাতের মানুষেরা’, ‘লীলাবতী আখ্যান’ অন্যতম।






