‘ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমি’র দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের মুলতানের একটি আদালত।
৩৩ বছর বয়সী জুনায়েদ হাফিজ মুলতানের বাহাউদ্দিন জাকারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে অতিথি প্রভাষক ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এর বিরুদ্ধে অপমানসূচক মন্তব্য পোস্ট করার অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ তাকে ব্লাসফেমি আইনে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বিচারকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেই শনিবার জুনায়েদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন অতিরিক্ত দায়রা জজ কাশিফ কাইয়ুম। সেই সঙ্গে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ২৯৫-সি ধারার অধীনে তাকে ৫ লাখ রুপি অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আসামিকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও তাকে দণ্ডবিধির ২৯৫-বি ধারার অধীনে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ১৯৫-এ ধারা মোতাবেক ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ রুপি অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সবগুলো সাজাই একের পর এক চলতে থাকবে জানিয়ে আদালত সংক্ষিপ্ত রায়ে বলেছেন, এক্ষেত্রে আসামি ইসলাম অবমাননাকারী হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ২৮২-বি ধারার কোনো সুবিধা পাবেন না। এ ধারা মোতাবেক, আসামি বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে সেই রায় পর্যন্ত যতদিন কারাগারে থেকেছে সেই সময়টিও তার কারাদণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হিসেবে ধরে নেয়া হয়।
জুনায়েদ হাফিজের বর্তমান আইনজীবী আসাদ জামাল রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, জুনায়েদকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জুনায়েদের আগের আইনজীবী রশিদ রেহমানকে ২০১৪ সালের মে মাসে নিজ অফিস কক্ষে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। মামলা চলার পুরো সময়টায় অন্তত ৭ জন বিচারককে বদলি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আতহার বুখারি জানান, গ্রেপ্তারের পর তদন্তে জুনায়েদের ল্যাপটপ থেকে ধর্মবিরোধী বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে।
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মিষ্টি বিতরণ করেছেন বলেও জানায় এনডিটিভি।
কিন্তু জুনায়েদের বাবা-মায়ের অভিযোগ, তাদের ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বারবার বিচারক বদল, সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিতে রাষ্ট্রপক্ষের দীর্ঘসূত্রিতা এবং মামলার বিষয় স্পর্শকাতর হওয়ায় আসামিপক্ষের জন্য উপযুক্ত আইনি সহায়তা পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ার কারণে তাকে ৬ বছর অকারণে জেলে থাকতে হয়েছে।
ডন জানায়, জুনায়েদ হাফিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কায় তারা চলতি বছরের শুরুর দিকে সাবেক প্রধান বিচারপতি আসিফ সায়িদ খোসা বরাবর আপিলও করেছিলেন মামলাটি দেখার জন্য। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি।
ধর্মীয় রক্ষণশীল রাষ্ট্র পাকিস্তানে ব্লাসফেমি বা ইসলাম অবমাননা খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। দেশটিতে ধর্ম অবমাননার মামলায় সম্ভাব্য সাজা মৃত্যুদণ্ডই হয়ে থাকে। এমনকি অপ্রমাণিত অভিযোগেও গণপিটুনি বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নজির রয়েছে।







