চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত খুঁজতে বই পড়ে দেখার ব্যাপারে যে যা বললেন

এবারের বইমেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক কোন বই প্রকাশিত হলে সেসব রোধ করার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। বইমেলা শুরু হওয়ার আগেই ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়াতে পারে, এমন বই প্রকাশের ওপর নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অভিমত, কেউ যেন গোপনে কোন বিতর্কিত বই প্রকাশ করতে না পারে, তা প্রতিরোধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে একেক জনের কাছে পাওয়া যায় একেক মন্তব্য।

শামসুজ্জামান খান

কথা হলে বাংলা একাডেমির ডিজি শামসুজ্জামান খান বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারবো না। বাংলা একাডেমি এই ব্যাপারে কিছু জানতে পারে না। কারণ বাংলা একাডেমি বই নিষিদ্ধ করে না। সাধারণত বই নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মহিবুল হক

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সেখানকার অতিরিক্ত সচিব মহিবুল হক বলেন, জনস্বার্থ বিঘ্নিত হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই পারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেশ কিছু গোয়েন্দা সংস্থা আছে। তাদের মাধ্যমে যে কোনো ধরনের তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পারলে সেই বিষয়ে ব্যবস্থাও নিতে পারে। বইয়ের ব্যাপারেও একই কথা। যদি কোনোভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানতে পারে যে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হবে। তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ কি বলেছে সেটা আমরা জানিনা।

একই বিষয় নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেস কাউন্সিলে যোগাযোগ করা হলে সেখানকার সেক্রেটারি শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, এই দায়িত্বটা প্রেস কাউন্সিলের নয়। যতদূর জানি এই ব্যাপারে প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন্স আইনে বেশ কিছু বক্তব্য আছে। সেখানে দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপর। তিনি চাইলে বই নিষিদ্ধ করতে পারবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যখন বইয়ের ওখানে যাবেন তখন তিনি নিশ্চয়ই কিছু পুলিশ সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন।

তবে এই বিষয়ে কোন আইন অনুসারে পুলিশ এভাবে বই নিষিদ্ধের কাজ করবে সেটা জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, এই ব্যাপারে আমরা এখন কিছু বলতে পারবো না। আগামীকালই হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে সবকিছু জানানো হবে।

এর আগে ব দ্বীপ থেকে প্রকাশিত শামসুজ্জোহা মানিকের লেখা একটি বই নিষিদ্ধ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তসলিমা নাসরীনের লেখা ‘লজ্জা’, ‘ক’, ‘আমার মেয়েবেলা’, ‘উতল হাওয়া’, ‘দ্বি-খণ্ডিত’ ও ‘সেই সব অন্ধকার’ বইগুলোও নিষিদ্ধ করেছিলো সরকার। আরেক সাহিত্যিক হুমায়ূন আজাদের লেখা ‘নারী’ বইটিও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। পরে অবশ্য আবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন