এক দশকে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক’শ ১৪ ভাগ হারে কর্মসংস্থান হয়েছে। সেবাখাত ও শিল্পে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ করছে রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম আর লালমনিরহাটের মানুষ। সবচেয়ে বড় সুযোগ তৈরি করেছে রপ্তানিমুখি পোশাক খাত।
কাজের অভাবে এক সময় উত্তরাঞ্চলের মানুষকে অবসর সময় কাটাতে হতো। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময় সেখানে সেখানে মঙ্গা বিরাজ করতো। সময়ের সাথে বদলে গেছে সে চিত্র। কৃষির আধুনিকায়ন, রেমিটেন্স প্রবাহ, মোবাইল ফোন, ব্যাংকিং এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের কারণে রাজধানীর সাথে কমেছে দুরত্ব। জীবিকার সন্ধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি দেশের বাইরেও কাজ করছে এসব এলাকার মানুষ।
সেই সময়কার ঘটনার কথা মনে করে একজন বলেন, সেই সময় অনেক কষ্ট করেছি। এখন ছেলে-মেয়েরা ঢাকার গার্মেন্টসে কাজ করার ফলে আর সে দুঃখ নেই।
উত্তরবঙ্গের মানুষের আয় পরিবর্তন নিয়ে গতবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। পিকেএসএফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে উত্তরাঞ্চলের মানুষের গড় বার্ষিক পারিবারিক আয় ছিলো ৩৫ হাজার টাকা। বর্তমানে তা হয়েছে ৭৮ হাজার টাকা।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আয় বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে ব্যয়ের স্বক্ষমতাও। ৮ বছর আগে গড় বার্ষিক মাথাপিছু ব্যায় ছিলো ৪২ হাজার টাকা, বর্তমানে তা হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা।
দেশের রপ্তানিমুখি পোশাকখাতের ৪০ লাখ শ্রমিকের বড় অংশই আসে উত্তরবঙ্গ থেকে। এসব শ্রমিকের পাঠানো অর্থ যেমন গ্রামে তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা এনেছে তেমনি চাঙ্গা করছে ঐসব এলাকার অর্থনীতি।
মঙ্গা থেকে স্বচ্ছলতায় আসা একজন বলেন, আমার মঙ্গা নাই; ছেলেরা ঢাকা থেকে টাকা পাঠায় সেটা খাই।
কে কে কাজ করছে জানতে চাইলে বলেন, বেটা(ছেলে) দুইটা আর বউ একটা ঢাকার গার্মেন্টসে কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গের মঙ্গা দুর করতে মুলত এলাকাভিত্তিক শিল্প-কারখানা আর পোশাকখাতের কর্মসংস্থানই প্রধান ভুমিকা রেখেছে।
অর্থনীতিবিদ খলিকুজ্জামান বলেন, প্রথমত: তাদের আয় বাড়ছে এবং তারা দারিদ্রতা থেকে বেরিয়ে আসছে। দ্বিতীয়ত: বৈষম্য সেখানে খানিকটা কমছে কারণ যারা অতি দরিদ্র ছিলো তাদের আয় বেড়েছে। তৃতীয়ত: সেই আয়টাই জাতীয় আয়ে সংযুক্ত হচ্ছে।
শিল্পে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেবাখাতে উত্তরবঙ্গের মানুষের অংশগ্রহনের হারও বেড়েছে। সবশেষ অর্থনীতি শুমারি অনুযায়ী এসব এলাকার প্রায় ৪৬ ভাগ কর্মসংস্থান হয়েছে সেবাখাতে।







