বাংলাদেশে এফএম রেডিও এবং সাম্প্রতিক সময়ে কমিউনিটি রেডিও পরিচিত নাম হলেও প্রচার-প্রচারণার অভাবে ব্যক্তিগত মালিকানার ভিন্নধর্মী অ্যামেচার বা সৌখিন রেডিও এখনো তেমন পরিচিতি পায়নি। অথচ বিশেষায়িত এই রেডিও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে যেখানে মোবাইলফোনের টাওয়ার নেই সেখানে অ্যামেচার রেডিও বা হ্যাম রেডিও বার্তা প্রেরণ-গ্রহণের নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম।
১৯৯২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে হ্যাম রেডিও নিষিদ্ধ ছিলো। ১৯৯২ সাল থেকে একটি পরীক্ষার মাধ্যমে হ্যাম লাইসেন্সে প্রদান শুরু হয়। এ বছরও পরীক্ষার জন্য দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১৯ আগস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে ইতোমধ্যে নোটিশ জারি করেছে বিটিআরসি। পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বরাবর নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে।
অ্যামেচার রেডিও পরীক্ষা ২০১৭ এবং আবেদনের ফর্ম ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন:
http://www.btrc.gov.bd/notice-board/notice-regarding-amateur-radio-service-examination-2017
১৮ বছর এবং এর বেশি বয়সের অ্যামেচার রেডিওতে আগ্রহী বাংলাদেশীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। ১০০ নম্বরের এই লিখিত পরীক্ষায় বেসিক ইলেকট্রনিক্স, ফান্ডামেন্টাল রেডিও ইঞ্জিনিয়ারিং, রেডিও রেগুলেশন, অ্যামেচার রুলস, কোড ও ব্যবহারিক জ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকবে।
অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য বাংলাদেশে হ্যামদের http://www.barl.org/ ওয়েবসাইটে ঢু মারতে পারেন।

অ্যামেচার বা হ্যাম রেডিও কী
অ্যামেচার রেডিও মূলত একটি সৌখিন বেতার মাধ্যম। বিশ্বজুড়ে এটা হ্যাম রেডিও নামেই বেশি পরিচিত। কারণ ১৯০৮ সালে প্রথমে নিজেদের মধ্যে বেতারযন্ত্রে যোগাযোগের একটি সংঘ দাঁড় করিয়েছিলেন আলবার্ট এস হাইমেন, বব আলমই ও পুগি মারি। তাদের তিনজনের নামের সংক্ষিপ্ত রূপই হলো হ্যাম। এরপর থেকে বিশ্বের অ্যামেচার রেডিও পরিচালনা করা ব্যক্তিদের হ্যাম নামেই ডাকা শুরু হয়।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় দুর্যোগের সময়ের পরমবন্ধু হতে পারে অ্যামেচার বা হ্যাম রেডিও। কারণ তখন ফোন নেটওয়ার্ক কাজ করে না। ২০০১ সালে ভারতের গুজরাটে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প বিধ্বস্ত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় একমাত্র ভরসা ছিলো হ্যাম রেডিও। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়ে এক জাপানি হ্যামের দেয়া দুর্গত মানুষের বার্তা পৌঁছেছিলো বিশ্বের অন্যান্য হ্যামদের মাধ্যমে।
আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে বিশ্বব্যাপী একটি উন্মুক্ত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ। কারণ সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ হ্যাম বসে আছে , যাদের পেশা অথবা শখই হলো বিনামূল্যে অন্যান্য হ্যামদের সাহায্য করা এবং অ্যামেচার রেডিও নিয়ে গবেষণা করা ।







