দেশে সংঘটিত সাইবার অপরাধের আখড়া হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আর এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা।
সাইবার অপরাধের শিকার ১৩৩ জন ভুক্তভোগীর ওপর চালানো জরিপ থেকে পাওয়া গবেষণার ভিত্তিতে এই পরিস্থিতি তুলে ধরেছে ‘সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা।
সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়: জেন্ডারভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের ৫১.১৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮.৮৭ শতাংশ পুরুষ। অ্যাকাউন্ট জাল ও হ্যাক করে তথ্য চুরির মাধ্যমে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ বাংলাদেশের নারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টে অপপ্রচারের শিকার হন ১৪.২৯ শতাংশ নারী। একই ধরনের অপরাধের শিকার হন ১২.৭৮ শতাংশ পুরুষ।
কিন্তু সাইবার অপরাধ বাড়লেও অধিকাংশ মানুষ প্রতিকারের উপায় জানেন না, এই রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরে গবেষণা প্রতিবেদন জানাচ্ছে: হয়রানির শিকার হলেও ভুক্তভোগীদের ৩০ শতাংশই এর বিরুদ্ধে কীভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় সে বিষয়ে জানেন না। বাকীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না ভেবে অভিযোগ করে না।
সাইবার অপরাধের শিকার হওয়াদের ৪৪ শতাংশই মনে করেন, অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়া গেলে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে পরিত্রাণ মিলবে। বাকিদের মধ্যে ২৯ শতাংশ আইনের প্রয়োগ বাড়ানো এবং ২৭ শতাংশ সচেতনতা গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দেয়।
এই পরিস্থিতিতে গবেষণা প্রতিবেদনে সাইবার অপরাধ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া এবং একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার সুপারিশ করে বলা হয়: গবেষণায় দেখা গেছে ভুক্তভোগীদের ৩৯ শতাংশ থানা পুলিশের কাছে গিয়েও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না। দক্ষতার অভাবে অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে সাইবার অপরাধের বিষয়গুলো তদন্তে হিমশিম খেতে হয়। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তায় বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিয়ে দক্ষতা-অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা উচিত।
এসব সুপারিশ উপেক্ষিত থাকলে, প্রতিকারের উপায় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব এবং লোকলজ্জা ও ভয়-ভীতির কারণে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি।







