বাংলাদেশের সাথে একযোগে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্যদিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন।
জেদ্দা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করেছে সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। দিনটি উপলক্ষ্যে সকালে কনস্যুলেটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কনসাল জেনারেল ফয়সাল আহমেদ।
এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা করেন।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বানী পাঠ করে শোনান কনস্যুলেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রদর্শিত হয় বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত প্রমাণ্যচিত্র।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কনস্যুলেটের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বঙ্গবন্ধু ও বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সৌদি সরকারের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মেনে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ঘরোয়াভাবে দিনটি পালন করে।
সিঙ্গাপুর
বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ হাইকমিশন সিঙ্গাপুর-এর উদ্যোগে পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর তিনি আমন্ত্রিত অতিথি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে হাইকমিশন এর হলরুমে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষ্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পাঠানো বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, আদর্শ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠান পর্বে বঙ্গবন্ধুর ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের উপর আলোকপাত করে হাই কমিশনার বলেন: বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি সোপানেই বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন ভূমিকা তাকে মুক্তকামী বাংলার মানুষের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তিনি এই মহান নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন ক্ষণজন্মা নেতা, অসমমাহসী ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ও প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রনয়ণ তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রিয়াদ
সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। এরপর রাষ্ট্রদূত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্যারিস
যথাযথ মর্যাদা এবং শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিস আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- এর জন্মশতবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস ২০২০ উদযাপন করেছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা- কর্মচারির উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর তিনি জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এরপর পবিত্র কুরআন ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ ও তার কর্মময় সংগ্রামী জীবনের উপর আলোচনা করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে দূতাবাস কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ, আয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেন: পুরো বিশ্বের পাশাপাশি ফ্রান্স ও এখন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এক কঠিন সময় অতিবাহিত করছে। এ সংকটকালে জনসমাগমের উপর বিধি-নিষেধ এবং প্রবাসীদের সুরক্ষার স্বার্থে দূতাবাস সকল অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন: এ সংকট থেকেও উত্তরণ ঘটবে। প্রবাসীদের সাথে নিয়ে প্যারিসেও ইউনেস্কো সদর দপ্তরে বিভিন্ন আয়োজনে মুজিববর্ষ যথাযথ আড়ম্বড়ে পালন করতে দূতাবাস সক্ষম হবে।
তিনি আরো বলেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়, জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গঠনে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে জাপানের চলচ্চিত্র পরিচালক নাগিসা ওশিমা পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘Rahman: Father of Bengal’ প্রদর্শিত হয়।








