দেশের সব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: গবেষণার মাধ্যমে আমাদের উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি বলেন: ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছিলাম বলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য চাহিদা কখনও কমবে না। সামনে আরও নতুন নতুন প্রযুক্ত সংযুক্তি করে আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৫৯তম কনভেনশন উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: ৯৬ সালে আমরা সরকারে এসে দেখেছিলাম গবেষণার জন্য একটি টাকাও রাখা হতো না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের সীমিত বাজেট দিয়ে তাদের যেটা ইচ্ছে অনুযায়ী গবেষণা করতো। তাদের প্রতি কোনো দিকনির্দেশনা ছিলো না।
‘‘আমরা শুরুতেই গবেষণার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিলাম। যার ফলে আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে নিজেরাই কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করেছি আমাদের উদ্ভাবনী শক্তিটা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা ধরে রাখতে গবেষণা সবসময় প্রয়োজন।’’
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন: ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রেও গবেষণার দিকে আপনাদের নজর দেওয়া উচিত। গবেষণা করে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে মাটি মানুষ এবং সবকিছুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমরা কিভাবে নতুন প্রযুক্তি আনতে পারি সেদিকে নজর দিতে হবে।
দুর্নীতি রোধে প্রযুক্তির ব্যহার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন: এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের কথা শোনা যায় না। কারণ আমরা ই-টেন্ডারে চলে গেছি। তারপরও কিছু কিছু মন্ত্রণালয়ে এখনো বাকি আছে। সেগুলোর কাজ আমরা দ্রুত এগিয়ে নেব। যাতে দুর্নীতি দূর করে আমরা সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারি।
দেশের উন্নয়নে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিন বলেন: আমরা যেন উন্নতভাবে কাজ করতে পারি সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যখন পরিকল্পনা গ্রহণ করি এটা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের ভূখণ্ড খুবই সীমিত। সেদিকে খেয়াল রেখে আমাদের পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। আমাদের সীমিত ভূমিতে এখন যে ১৬ কোটির উপরে মানুষ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে হবে, পুষ্টি নিরাপত্তা দিতে হবে। যাতে তাদের জীবন মান যেন উন্নতি হয় সে চেষ্টাও আমাদের করে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: উন্নয়নে শিক্ষাকে সবথেকে গুরুত্ব দিয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে আমরা কারিগরি শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়েছি। কারিগরি শিক্ষাকে আমরা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আমরা কৃষিকে আধুনিকীকরণ করতে চাই, যান্ত্রিকীকরণ করতে চাই। আমরা শিক্ষা দিচ্ছি একজন শিক্ষিত মানুষ যেন তার ওই কৃষি কাজকে আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যদিয়েই সম্পন্ন করতে পারে, যান্ত্রিকীকরণ করে করতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তারা যেন কর্মবিমুখ না হয়।
তিনি বলেন: বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে আমাদের এই যান্ত্রিকীকরণটা দরকার। এক্ষেত্রে সবথেকে বেশি প্রয়োজন গবেষণা। গবেষণা খুলে দিতে পারে নতুন সম্ভবনার নতুন দিগন্ত।








