প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি তারাই বাংলাদেশকে ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চেয়েছে। তাদের সে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার তৃণমূল মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গণভবন থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠান ও ভিডিও কনফারেন্সের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের দেশ গঠন ও শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “অ্যালামনাই হিসেবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, আমি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিয়ে আজকে আমার জীবন-জীবিকাকে গড়ে তুলতে পারলাম, সেখানে আমি কী দায়িত্বটা পালন করলাম। কাজেই আজকে যে কোনো কাজের জন্য সরকার বা অন্য কেউ করে দেবে – এই মুখাপেক্ষী না থেকে অ্যালামনাই এসোসিয়েশন যদি উদ্যোগ নেয়, তার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো হল বা লাইব্রেরি তৈরি, অথবা ডিজিটাল সেন্টার বা ল্যাবরেটরিতে সরঞ্জাম সরবরাহ করার কোনো একটি কাজ করতে পারে।”
“আমি জানি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য করে যথেষ্ট অর্থের মালিক। তারা হয়তো পয়সা খরচের জায়গাই পান না। সেই খরচটা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করা যায়,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমুদ্রে মৎস্য অনুসন্ধান ও গবেষণার জন্য রিসার্চ ভেসেলে
মিন অনুসন্ধানীর কমিশনিং করেন। এই জাহাজ বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় মৎস্য সম্পদ গবেষণা করবে। প্রধানমন্ত্রী এর কমিশনিং করে বলেন, বাংলাদেশ যে ব্লু ইকোনমি পলিসি ঘোষণা করেছে তাতে মৎস্য বিষয়ক এ গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বিশাল সমুদ্রসীমাকে সরকার দেশের ব্যাপক উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায়। সেই লক্ষ্যেই মিন অনুসন্ধানীর কমিশনিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে কোথায় কী ধরণের মাছ আছে এবং তা কীভাবে আহরণ করা যায় – এ নিয়ে কাজ করা হবে।
তাছাড়া গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নেই উল্লেখ করে এ ব্যাপারে গবেষণা চালাতে আরও অনেকে সহায়তায় এগিয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৪ বছরের সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতির জনকের হত্যার পর অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা বাংলাদেশকে দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর করতে চেয়েছে। দেশের উন্নতি না করে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তারা কখনোই দেশের উন্নতি বা স্বাধীনতা চায়নি।
জাতির জনক বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মর্যাদা পেত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ। এ দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না।
পরে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের বক্তৃতা শোনেন এবং তাদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।







