‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দল’ কথাটা এতদিন কেবল মুখে মুখে রটেছে। চাইলে এখন তা কাগজে-কলমেও মিলিয়ে নেয়া যায়। গত দেড় বছরে জয়ের সংখ্যাই অকাট্য প্রমাণ। টাইগারদের সাফল্যের গ্রাফ যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সেভাবে বেড়েছে প্রত্যাশাও।
বিশ্বকাপ শুরু হতে কেবল এক রাতের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার দ্য ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও সাউথ আফ্রিকা খেলবে উদ্বোধনী ম্যাচে। ১০ দলের আসরে হট-ফেভারিটদের তালিকায় না থাকলেও বাংলাদেশ অন্যতম আকর্ষণ। সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল বিশ্বকাপ অভিযানে নামবে আগামী রোববার। টাইগারদের প্রথম প্রতিপক্ষ প্রোটিয়ারা।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে সেমিফাইনালে দেখতে চাওয়া অমূলক কিছু নয়। তবে প্রত্যাশা চাপ হয়ে টাইগার ক্রিকেটারদের সামনে না এলেই হল! ২০১৮ সালের শুরু থেকে এপর্যন্ত বাংলাদেশ ২৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ১৭টিতে। সাফল্যের বিচারে যা বাংলাদেশকে দিয়েছে তিননম্বর স্থান। তাহলে এবারের বিশ্বকাপে সেরা চারে নাম লেখানোর আশা তো করতেই পারে লাল-সবুজরা।
তবে বিশ্বকাপ তো এই সমীকরণ মেনে আগাবে না। তীব্র প্রতিযোগিতার কঠিন মঞ্চে শতভাগেরও বেশি নিংড়ে দিতে না পারলে সাফল্য ধরা দেবে না। সর্বোচ্চ লেভেলের স্কিল, ফিটনেস আর মানসিক দৃঢ়তা না থাকলে বিশ্বকাপের ময়দানী যুদ্ধে লক্ষ্যপূরণের সম্ভাবনা হয়ে যায় ক্ষীণ। ভাগ্যের ছোঁয়ায় কখনও যে ম্যাচের গতিপথ বদলায় না এমনও নয়। সেক্ষেত্রেও থাকতে হবে দুর্বার সাহসিকতায় শেষ পর্যন্ত মাঠে লড়াই করে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি।
বিশ্বকাপে ‘বাংলাদেশের লক্ষ্য সেমিফাইনাল’ এমন কথা চাউর হয়েছে ক্রিকেটারদের কণ্ঠেই। সেটির অনুরণন ছড়িয়েছে দর্শকমনে। প্রত্যাশার পারদ এতটাই উঁচুতে যে, প্রস্তুতি ম্যাচ হারও মেনে নেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে! কার্ডিফে ভারতের কাছে ৯৫ রানে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের নেতিবাচক নানান কথাও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বপ্নকে বড় করেছে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সেবার র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দলের আসরে সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ, মাত্র একটি ম্যাচ জিতে। চার দলের গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ম্যাচটি হয় পরিত্যক্ত। তাতে মেলে ১ পয়েন্ট। নিউজিল্যান্ডকে হারালে মোটে তিন পয়েন্ট নিয়ে সেমিতে নাম লেখায় মাশরাফীর দল। তার আগে ১৪ দলের ২০১৫ বিশ্বকাপেও বৃষ্টির সহায়তা মিলেছিল, ওই আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচের তিনটিতে জয় আর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নকআউটে যায় টিম টাইগার্স।
আগের দুটি বড় আসরে প্রকৃতির সহায়তা ছাড়াও বাংলাদেশ পেয়েছে সহজ ফরম্যাটের সুবিধা। এবার সবচেয়ে কঠিন ফরম্যাট, যেখানে ১০টি দলের সবার সঙ্গে সবার খেলা। এক দলের ম্যাচ ৯টি করে। যেখানে বড় দলের সুবিধাও বড়। এক-দুই ম্যাচে খারাপ করলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে। টানা হেরেও টানা জিতে কোনো দল টিকে যেতে পারে সেমির লড়াইয়ে। আর সেটি ভারসাম্যপূর্ণ দলকে হাতছানি দিয়ে বেশি টানবে।
গ্রুপপর্ব থাকলেও অল্প ম্যাচ জিতেই অনেক সময় নকআউট পর্বে যাওয়া যায়। এবারের ফরম্যাটে ছিটকে যাওয়ার ভয়ও যেমন বেশি, তেমনি টিকে থাকারও সুযোগ থাকবে দলগুলোর। সেক্ষেত্রে প্রতিটি ম্যাচেই দলগুলোকে ভালো করতে হবে। বিশেষ করে বড় ম্যাচগুলোতে।
বড় ম্যাচের কথা আসলেই বাংলাদেশকে নিয়ে একটু শঙ্কা থাকবে! বিশ্বকাপের আগে আশার আলো জ্বালিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতলেও বড় ম্যাচগুলোতে খেই হারানোর অনেক উদাহরণ আছে। এশিয়া কাপ থেকে নিধাস ট্রফি যার জ্বলন্ত উদাহরণ। ফলে র্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দলের জন্য সেমির লক্ষ্যে সফল হওয়া কঠিন এক চ্যালেঞ্জেরই সমার্থক।







