এখনকার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ফোকাসে থাকতে চায়, কাজ নিয়ে ভাবেননা। আমি তিন-চার প্রজন্মদের সঙ্গে কাজ করেছি। আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। কিছুদিন আগে আমারই ভাই-ব্রাদার মালয়েশিয়ায় গিয়েছিল, তারা একবার ঠিকভাবে দেখল না, মালয়েশিয়ায় যাচ্ছি, কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা! আমার ভাই-ব্রাদাররা বাইরের যাওয়ার জন্য যত সিরিয়াস, কাজ নিয়ে ওত সিরিয়াস না। কোনো সিনেমা পেলে স্ক্রিপ্ট নিয়ে অধ্যবসায় করতে অত সিরিয়াস হয় না। এজন্য আমাদের দেশে নতুন শিল্পী তৈরি হচ্ছেনা।কথাগুলো বলছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা মিশা সওদাগর।
সোমবার রাতে রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় ‘পাগল মানুষ’ ছবির মুক্তি উপলক্ষে জনপ্রিয় এই খল অভিনেতা এসব কথা বলেন। মিশা বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রী হওয়া সহজ। কিন্তু শিল্পী হওয়া সহজ নয়। অতীত বর্তমানের অস্থি, মজ্জা সবকিছু নিমজ্জিত করতে হবে শিল্পী সত্ত্বার ওপর। যখন শিল্পী সত্বার ওপর ফোকাস করা হবে তখন কিছু একটা হবে। কিন্তু আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে এটার অভাব রয়েছে।
মিশা সওদাগর বলেন, ফিল্মের খুব বাজে সময় যাচ্ছে। বলা যায়, ফিল্ম এখন শেষের দিকে। বিক্ষিপ্তভাবে দু-একটা ছবি চলছে। যেমন আয়নাবাজি, ঢাকা অ্যাটাক। কিন্তু এই দু-একটা ছবি দিয়ে দেশীয় ইন্ডাস্ট্রি টিকে থাকতে পারবে না। কিন্তু এর মধ্যে ছোট ছোট আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আরিফ ইস্পাহানী, বদিউল আলম খোকন, শাহীন সুমন, ফারুকী, রাজরা ছবি বানাচ্ছে। এটা ভালো দিক।
তিনি বলেন, এখন যারা ছবি বানাচ্ছে বেশিরভাগই বিক্ষিপ্ত প্রযোজক। এদেরকে ভালো লাগিয়ে কিংবা বায়াস করে আনা হচ্ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিন্তু আর আসছে না। আমাদের দেশের প্রোপার প্রযোজক নেই। নিশ্চিত করে বলতে পারি যে দেশের শতভাগ পেশাদার প্রযোজক থাকবে না, সেদেশের ইন্ডাস্ট্রি টিকবে না। আমাদের প্রযোজক সমিতি নেই। তাহলে কী হবে? স্কুলই নেই, তাহলে ছাত্র ভালো হবে কীভাবে? আমাদের দৈনতার সুযোগ নিয়ে শিকারি, নবাবের মতো ইন্ডিয়ান দুএকটি ছবি চলতে পারে। কিন্তু দেশীয় ছবি ভালো যাচ্ছে না। এজন্য দরকার অসম্ভব সাধনা।
মিশা আরও বলেন, হাবিব নাকি একটি ভালো গানের জন্য তিন লাখ টাকায় চায়! আগে আমাদের সুবল দাস, সত্য সাহা, আলম খান সবাই গান নিয়ে বসতেন। আলাপ আলোচনা করে গান বানাতেন। গানের জন্য দর্শক একাধিকবার ছবি দেখতেন। এখন কী গান জনপ্রিয়তা পাচ্ছে? শেষ ১০ বছরে ছবির ৫ টি গান কী জনপ্রিয়তা পেয়েছে? শুধু হৃদয়ের কথা ছবি ‘ভালবাসব বাসবরে’ গানে মনে ধরেছে। গান যদি ঠিক না থাকে তাহলে ছবি কেন দেখবে দর্শক?
এই সংবাদ সম্মেলনে মিশা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পাগল মানুষ ছবির অন্যান্য শিল্পী শাবনূর, ডন, শায়ের খান প্রমুখ। ১২ জানুয়ারি প্রায় ৭০ টির মতো সিনেমা হলে পাগল মানুষ মুক্তি পেটে যাচ্ছে। আর এই ছবির মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর মুক্তি পেতে যাচ্ছে শাবনূরের ছবি। তার মুক্তি প্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি ছিল কিছু আশা কিছু ভালোবাসা।







