শ্রীলঙ্কান টপঅর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের আধিক্য; তাই নতুন বলে আক্রমণের ডাক পড়ল অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের। একে একে মাশরাফী-মোস্তাফিজ-মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটি বেধে টানা ১০ ওভারের স্পেল শেষ করলেন মিরাজ। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ততক্ষণে শতরান পেরিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। উইকেট হারিয়েছে কেবল দুটি। তারপর ডাক পড়ল সাকিবের। ইনিংসের ২৫তম ওভারে সাকিবের প্রথম বলটি ব্যাটসম্যানদের দিকে ছুটে গেল।
তিনটি রেকর্ডের হাতছানি নিয়ে বোলিং শুরু করা বাঁহাতি স্পিনারের জন্য একটু দেরিতেই আক্রমণে আসা। দ্বিতীয় বলেই পেয়ে যেতে পারতেন উইকেট! নতুন আসা দিনেশ চান্দিমালকে প্রথম বল ডট করান। পরের বলেই উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এলে স্টাম্পিংয়ের দারুণ সুযোগ পান মুশফিক। কিন্তু গ্লাভসে বলই ছুঁতে পারেননি। চান্দিমালের রান তখন ২।
সাকিবের পরের ওভারেই আরেকটি সুযোগ। কাভারে তখন উপুল থারাঙ্গার ক্যাচ ছাড়লেন মিরাজ। ৩৯ রানে জীবন পাওয়া এ বাঁহাতি ওপেনারকে পরে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজ।
বোলিংয়ে শুরুর আগ্রাসীভাব সাকিবের মধ্যে পরে আর পাওয়া যায়নি। তাকে সাবলীলভাবে খেলে গেলেন ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ৫ ওভারে ২০ রান খরচায় তাই উইকেটশূন্য সাকিব। রেকর্ডের হাতছানিগুলো হাতছানিই হয়ে থাকল আপাতত।
এর মাঝেই ৪২তম ওভারে ফিল্ডিং করতে যেয়ে বাঁহাতের আঙুলে চোট পেয়েছেন সাকিব। মাঠ ছেড়ে গেছেন সঙ্গে সঙ্গেই। চোট কতটা গুরুতর সেটা তাতক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে টাইগার ড্রেসিংরুমে ভয়ের শ্রোত বয়ে গেছে তার বেদনাকাতর মুখমণ্ডলী দেখে!
এদিন সাকিব সুযোগ তৈরি করার আগে আফসোসে পুড়েছেন সাইউফদ্দিনও। এই পেসার ৩৩ রানে ফিরিয়ে দিতে পারতেন থারাঙ্গাকে। অফকাটারে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। বাঁ-দিকে কিছুটা ঝাঁপিয়ে মুশফিক চেষ্টা করলেও গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচের গ্রাউন্ডস ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ভাল করলেও তিনটি সুযোগ হাতছাড়া করায় আক্ষেপে পুড়ছে দল। সেটা কতটা ক্ষতির কারণ হতে পারে বোঝা যাবে ম্যাচ শেষ হলেই!








