ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার পদত্যাগ করায় রাজ্যটির জোট সরকারের পতন হয়েছে। বুধবার পটনার রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নীতীশ কুমার নিজেই ভেঙে দেন সরকার। রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
তবে আপাতত কার্যনির্বাহী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতীশকেই কাজ করতে বলেছেন রাজ্যপাল। ইস্তফা দেওয়ার পর রাজভবন থেকে বের হওয়ার পর নীতীশ কুমার বলেছেন, ‘‘দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করতে পারব না, তাই সরে এলাম।’’
‘‘গত ১৫ দিন ধরে আমি অনেক চেষ্টা করেছি এই জোট সরকারকে বাঁচানোর। কিন্তু আমার পক্ষে আর এই সরকারের নেতৃত্ব দেওয়া আর সম্ভব ছিল না।’’
তার প্রশ্ন, ‘আমি যেখানে নোটবন্দিকে সমর্থন করেছি, বেনামি সম্পত্তির বিরুদ্ধে অভিযানকে সমর্থন করেছি, সেখানে তেজস্বীর বিরুদ্ধে বেনামি সম্পত্তি রাখার অভিযোগ ওঠার পরেও আমি তাকে সমর্থন করব কী করে?’
মহাজোট সরকারের বৃহত্তম শরিক তথা লালুপ্রসাদের দল আরজেডি-র সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরেই নানা ইস্যুতে টানাপড়েন চলছিল নীতীশ কুমারের। দুর্নীতির মামলায় লালু এবং তার ছোট ছেলে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বীপ্রসাদ যাদব সিবিআই তদন্তের মুখে পড়ায় সেই টানাপড়েন আরও বেড়েছিল।
অবিলম্বে তেজস্বীর পদত্যাগ চেয়েছিলেন নীতীশের দল জেডি(ইউ)। নীতীশ নিজে প্রথম কয়েক দিন নীরব থাকার পর নিজেও জানান, তেজস্বীর পদত্যাগই কাম্য। কিন্তু লালুপ্রসাদ এবং তার দল তেজস্বীর পাশেই ছিল। তেজস্বী পদত্যাগ করবেন না বলে আরজেডি-র তরফে বার বার জানানো হচ্ছিল।
আরজেডির বক্তব্য, তেজস্বীর নামে অভিযোগ উঠেছে মানেই এই নয় যে তিনি অপরাধী। নীতীশকে আক্রমণ করে আরজেডি নেতারা বলেছিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজেও কোনও সাধু-সন্ত নন।’
বুধবার সকাল থেকেই আরজেডি-র তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছিল যে নীতীশ কুমার নিজের মন্ত্রিসভা থেকে উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদবকে বরখাস্ত করতে পারেন। তাই লালু নিজেও এ দিন নীতীশের বিরুদ্ধে বলেন, ‘‘নীতীশ কুমারকে মুখ্যমন্ত্রী আমিই বানিয়েছিলাম। এ বার তাকেই ঠিক করতে হবে যে তিনি মহাজোটের ভার বহন করতে পারবেন কি না।’’
কিন্তু তেজস্বীকে বরখাস্ত না করে সন্ধ্যায় নিজেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। নীতীশ বলেছেন, ‘‘আমি কাওকে পদত্যাগ করতে বলিনি। অন্তরাত্মার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি নিজেই সরে দাঁড়িয়েছি।’’
তেজস্বী যাদব এবং লালুপ্রসাদ যাদবের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল বলে নীতীশ জানিয়েছেন। তার কথায়, ‘‘আমি তেজস্বীকে বলেছিলাম, তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত হচ্ছে কি না তা ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দিতে। তিনি এবং লালু যেহেতু কোনও ব্যাখ্যা দেননি, তাই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ আমার আমার সামনে খোলা ছিল না।’’







