পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ কানাডার আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় বিশ্ব ব্যাংক চপেটাঘাত খেয়েছে বেলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি মনে করেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির নামে বাংলাদেশের উপর কলঙ্কের বোঝা চাপানো হয়েছিল। তাই এদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।
রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন-২০১৭ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আব্দুস সালামসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু নিয়ে প্রফেসর ড. ইউনুস, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটনসহ কিছু লোক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এছাড়া এ মিথ্যা অপবাদের সাথে কিছু টকশো বিশেষজ্ঞ সুর মিলিয়েছিলেন। যখন পদ্মাসেতু নিয়ে অপবাদ দেয়া হয়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ছাড়াই নিজেদের অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবো। বর্তমানে ঠিক তা-ই হচ্ছে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, পদ্মা সেতুতে কোন অনিয়ম হয়নি। দুর্নীতির অভিযোগ ষড়যন্ত্র। আর এখন কানাডার আদালতে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। সজিব ওয়াজেদ জয়ের ভাষায় আমিও বলতে চাই, এখন বাংলাদেশের কাছে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘সবকিছুতে রাজনীতি ঢোকানো ঠিক নয়। রাজনীতি আর দেশের স্বার্থ এক নয়’।
ব্যাংকিং খাতে অনভিজ্ঞ লোক রয়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোন অভিজ্ঞতা নেই এমন অনেক লোক বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন। যারা জনগণকে সেবা দেওয়ার পরিবর্তে নিজেরা সেবা নিচ্ছেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত একটি সংবেদনশীল খাত। তাই সবাইকে যত্নবান হয়ে কাজ করতে হবে’। একই সঙ্গে শীর্ষ ঋণ খেলাপির তালিকা করে ঋণ আদায়, নতুন করে যেন কোন অনিয়ম না হয় সেদিকে নজর বাড়াতে ও নতুন কোন ঋণ যেন খেলাপি না হয় সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনতা ব্যাংকের প্রশংসা করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই ব্যাংকে ১৮ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি কৃষকের হিসাব রয়েছে। যা ইতিবাচক। এতে বোঝা যাচ্ছে জনতা ব্যাংক কতটা এগিয়েছে। আগের তুলনায় এই ব্যাংকের ক্লাসিফাইড লোন অনেক কমেছে। আশাকরি আরো কমবে। সে জন্য সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।







