কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৯৫ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচ হারলেও আরেকটি সুযোগ পাবে তামিম ইকবালের দল। রোববার টুর্নামেন্টর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ এলিমিনেটর বাধা টপকে আসা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার রংপুর রাইডার্স। এ ম্যাচের জয়ী দল আগামী ১২ ডিসেম্বরের ফাইনালে হবে সাকিবদের প্রতিপক্ষ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ঢাকা- ১৯১/৭ (লুইস ৪৭, পোল্যার্ড ৩১, আফ্রিদি ৩০)
হাসান ৩/১৬, ব্রাভো ২/৪৫
কুমিল্লা- ৯৬ (১৮ ওভার) তামিম ৩১, হাসান ১৮
আফ্রিদি ৩/১৬, সাকিব ২/১৯
লিগপর্বের দুই ম্যাচেই কুমিল্লার কাছে ঢাকা হারলেও এদিন দেখা গেছে অন্য এক দলকে। ব্যাটিং-বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই আধিপত্য দেখায় তারা। বিপরীতে লিগপর্বে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করা দল কুমিল্লার খেলায় ফুটে ওঠে অসহায়ত্ব।
১৯১ রানের পুঁজি উজ্জীবিত করে তোলে ডায়নামাইটস খেলোয়াড়দের। নতুন বলে আক্রমণে এসেই সাফল্য পান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তৃতীয় বলেই ফিরতি ক্যাচ ধরে সাজঘরে পাঠান লিটন দাসকে। রানের খাতা খুলতে পারেননি কুমিল্লার এ ওপেনার। অপর প্রান্ত থেকে জ্বলে ওঠেন সাকিব আল হাসান। বোল্ড করে দেন জস বাটলারকে (৫)। তামিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইমরুল (৯) কায়েস যখন থিতু হওয়ার প্রচেষ্টায় তখনই দ্বিতীয় আঘাত হানেন মোসাদ্দেক। কুইক ডেলিভারিতে ফিরে যান এ বাঁহাতি।
আগের ম্যাচে ফিফটি পাওয়া মারলন স্যামুয়েলসও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। আবু হায়দারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নামের পাশে ৬ রান লিখিয়ে। বিপর্যয়ের মাঝে এক প্রান্ত আগলে খেলে যান অধিনায়ক তামিম। এ ইনফর্ম ওপেনার ২৮ বলে ৩১ করে ফিরলে বড় ব্যবধানে হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। একটি ছয় ও তিনটি চারের মার ছিল তামিমের ইনিংসে।
টেলএন্ডার ব্যাটসম্যান হাসান আলীর ১৮ ও মেহেদী হাসানের অপরাজিত ১৫ রানের ইনিংসেও তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেনি কুমিল্লা। দুই ওভার আগেই ৯৬ রানে অলআউট হয় লিগপর্বে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ালিফায়ারে ওঠা কুমিল্লা।
আফ্রিদি ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। সাকিব ও মোসাদ্দেক নেন দুটি করে উইকেট। নারাইন ও আবু হায়দার নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
টস জেতা ঢাকার শুরুটা ভাল হয়নি এ ম্যাচে। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ফিরে যান মেহেদী মারুফ (৬)। এরপর লুইস চালিয়ে খেলতে শুরু করেন। ৩২ বলে ৪৭ করে শোয়েব মালিকের বলে বোল্ড হন তিনি। ছয়টি চার, তিনটি ছয়ে এই রান করেন।
লুইস ফিরলে পোল্যার্ড স্কোর বড় করতে থাকেন। তাকে ফেরান স্বদেশী ব্রাভো। ১৪তম ওভারের প্রথম বলটির লেন্থ বুঝতে ব্যর্থ হন। হাফভলি বানিয়ে খেলতে যেয়ে আকাশে উঠিয়ে দেন। ১৮ বলে ৩১ করে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে।
সাকিব আল হাসান ৯ রানে ফিরলে মোসাদ্দেককে নিয়ে শুরু করেন আফ্রিদি। পাকিস্তানি তারকা ১৯ বলে ৩০ রান করে ফিরে যান। ১৯তম ওভারের শেষ বলে হাসান আলীর শর্টবল পেছনের পায়ে না গিয়ে পুল করতে যেয়ে তামিমের হাতে ধরা পড়েন। মোসাদ্দেক ৫ বলে ৩ রান করে ফুলটস বলে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন।
হাসান আলী ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। ৪৫ রান খরচায় দুই উইকেট ব্রাভোর।








