আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মহাশূন্যে নিজস্ব স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ পাঠাবে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের মাধ্যমে দেশের তথ্য-প্রযুক্তিখাতে যুগান্তকারী সাফল্য আসবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য-প্রযুক্তিখাতে সরকারের অবদান তুলে ধরে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী স্লোগান ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট সহজলভ্য করেছে সরকার।
তিনি বলেন, তার সরকার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিয়েছে। দেশে এখন তৃতীয় প্রজন্মেও উন্নত থ্রি-জি নেটওয়ার্ক এসেছে। শিগগিরই ফোর-জি সেবা চালু করা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সুন্দরবনসহ দুর্গম এলাকায় তার সরকার মোবাইল নেটওয়ার্ক দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময় তা দেওয়া হয়নি।
এসময় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম ‘ইন্টারনেট ডট ওআরজি’র কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, দেশের ইন্টারনেট সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খুব শিগগিরই বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সাথে যুক্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৭ সালেই মহাশূন্যে বাংলাদেশের ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ পাঠানো হবে। এতে টেলিকমখাতে বিদেশি নির্ভরতা কমবে।
তাছাড়াও এ খাতে আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশেই অপটিক্যাল ফাইবার, টেলিফোন, ল্যাপটপ তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরগুলোর ওয়েবসাইট খোলা, পরীক্ষা, চাকরি, কৃষিসহ সামগ্রিক যোগাযোগখাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। এর মাধ্যমে জনগণের ভোগান্তি ও সময় অপচয় কমেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলমান অগ্রগতিতে ২০২১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা জানিয়ে সন্ধ্যায় বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।







