বড় দুই রাজনৈতিক দলের আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে রাজনীতির মাঠে জল্পনা-কল্পনা চললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্মেলন দুটিকে গতানুগতিক এবং আরেকটি জনসভার মতোই সাধারণ ঘটনা মনে করছেন।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে জাতীয় পার্টিতে কিছু নাটকীয়তা থাকলেও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি আগের মতোই কিছু বক্তৃতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে সব ক্ষমতা দিয়েই সবকিছু শেষ করবে বলে মনে করছেন তারা।
তারা বলছেন, রাজনীতি, গণতন্ত্র এবং দলীয় রাজনীতি চর্চার মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত কাউন্সিল থেকে দেশ, রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রের ব্যাপারে তেমন কিছুই আশা করা যায় না।
কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলগুলো দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও দলীয় গণতন্ত্র এগিয়ে নেওয়ার যে আশার কথা শোনাচ্ছে তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশাবাদী হতে পারছেন না। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিল হবে গতানুগতিক। জাতীয় পার্টিতে নাটকীয়তা থাকতে পারে, সেটাও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘না, এই সম্মেলনগুলো থেকে আমি তেমন ইতিবাচক কিছু আশা করি না। এগুলো যথারীতি একটা সম্মেলন হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমেনা মহসিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘মৌলিক কাঠামোতে পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত এসব কাউন্সিল থেকে আমি কিছু আশা করি না।’
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাউন্সিলের ব্যাপারে শান্তনু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে আলাদা করে বললে, দুটি দলে সাধারণ সম্পাদক সহ দুই একটি পদ নিয়ে কিছু হতে পারে। তারপরও ব্যতিক্রম কিছু হবে না। কারণ এটা আমরা বুঝতে পারি আসলে দুই নেত্রী যাকে বেছে নেবেন তিনিই দায়িত্ব পাবেন।’
দলের ভেতরে গণতন্ত্রায়ণের বিষয়ে নিয়ে সম্প্রতি যেসব কথাবার্তা হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্মেলনের ভেতর দিয়ে দলীয় গণতন্ত্রে পরিবর্তন না এসে বরং সেটা আরো শক্ত হতে পারে।’
আমেনা মহসিন বলেন, ‘দলগুলোর মৌলিক কাঠামোতেই গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। তাই মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন না এনে এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সামনে না আনলে ভালো কিছু আশা করা যায় না।’
জাতীয় পার্টির কাউন্সিল বিষয়ে শান্তনু মজুমদার বলেন, জাতীয় পার্টির সম্মেলনকে তিনি মোটেও গণতান্ত্রিক কোনো চর্চা হিসেবে দেখছেন না।
‘এরশাদের এখন শেষ সময় চলছে। তাই দলে তিনি নিজের একটা লিগ্যাসি তৈরি করতে চাচ্ছেন। এই জন্যে নিজের ছোট ভাইকে কো-চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। তবে জাতীয় পার্টিতে দুটি গ্রুপের যে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে তেমনটা হবে না।’
জাতীয় পার্টির বিষয়ে আমেনা মহসিনওপ্রায় একই ধরনের মত প্রকাশ করেন ।






