দশ দিনের এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে প্রথমেই নর্থ ও সাউথ কোরিয়াকে পার্থক্যকারী ডিমিলিটারাইজড জোন (ডিএমজেড) বা অসামরিক এলাকায় গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। সাউথ কোরিয়া সফরে এরপর তিনি দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দেখা করবেন।
সাউথ কোরিয়া ছাড়াও এই দশ দিনে পেন্স এশিয়ার আরও তিনটি দেশ সফর করবেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ডিএমজেড পৌঁছে মাইক পেন্স বলেন, কৌশলগত কারণেই নর্থ কোরিয়া ইস্যুতে এতদিন ধৈর্য ধরে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এখন সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাইক পেন্স রোববার সিউলে পৌঁছান। সেখান থেকে সোমবার হেলিকপ্টারযোগে ডিএমজেডের কাছে অবস্থিত জাতিসংঘের একটি সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প বোনিফাসে যান তিনি। এরপর তার ডিএমজেড এলাকার ভেতরেই অবস্থিত পানমুনজম গ্রাম পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে কোরীয় যুদ্ধাবসানের চুক্তি সই হয়েছিল।
মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট পেন্সের বাবাও কোরীয় যুদ্ধে লড়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং সাউথ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর বন্ধুত্ব ঐতিহাসিক একটি বিষয় এবং দু’দেশের মানুষের মাঝে থাকা অটল বন্ধুত্বের প্রমাণ।
নর্থ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে সম্প্রতি উত্তেজনা বেশ বেড়েছে। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং শক্তি প্রদর্শন থেকে এখন যে কোনো সময় দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি নর্থ কোরিয়ার প্রতিবেশী এবং মিত্র চীনও এমন আশঙ্কার কথাই জানিয়েছে।

নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রসহ অন্যান্য অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধের দাবি জানিয়ে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে কোরীয় সাগর ও উপদ্বীপ অঞ্চলে এখনো রয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারের একটি বহর। অন্যদিকে ‘ডে অব সান’ উপলক্ষে নর্থ কোরিয়া ব্যাপক সমরাস্ত্র মহড়া করে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও চালায়। যদিও গত শনিবার চালানো পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে সাউথ কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলো।
এর জবাবে আবার সোমবার যুক্তরাষ্ট্র এবং সাউথ কোরিয়া একটি যৌথ বিমানবাহিনী মহড়া করেছে বলেও সাউথ কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলো থেকে জানা যায়। নর্থ কোরিয়ার বিরুদ্ধে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতেই এই মহড়া বলে জানানো হয়েছে।








