দিল্লীর বুরারিতে একই পরিবারের ১১ জনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন ওই বাড়িটিতে পাওয়া হাতে লেখা নোট। এই নোটই প্রমাণ করছে পরিবারের এক সদস্য হ্যালুসিনেশন ও বিভ্রমের শিকার ছিল।
পুলিশ বলছে, নারায়ণ দেবির ছোট ছেলে ৪৫ বছর বয়সী ললিত ভাটিয়াই এই গণআত্মহত্যা পরিচালিত করেছে। এমনকি মৃত্যুর পরিকল্পনার নোটও তৈরি করে সে। কয়েক বছর আগে থেকে নীরবতার ব্রত পালন করা শুরু করে ললিত। তবে সম্প্রতি আবার কথা বলা শুরু করে সে। এসময় ললিত নিজের মৃত বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথাও জানায়।
তার লেখা নোটগুলোতে নিয়তির কথা লেখা ছিল, সঙ্গে পরিবারের জন্য সেই সব পরামর্শ ছিলো যা তাদের রক্ষা করতে পারে।
একটি নোটে লেখা ছিল, অন্তিম সময়ে, শেষ ইচ্ছে পূরণের সময়ে আকাশ নড়বে, পৃথিবী কাঁপবে। ওই সময়ে তুমি ভয় পেয়ো না, মন্ত্র জপ করা বাড়িয়ে দিও। আমি তখন তোমাকে ও অন্যদের সাহায্য করবো।
পুলিশ জানায়, ললিত বিশ্বাস করতো ১০ বছর আগে মারা যাওয়া বাবার কাছ থেকে পরামর্শ পায় সে। সে তার পরিবারকেও সেকথা জানায়। পরিবারটি খুবই কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিল এবং তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার সময় চলে এসেছে।
আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের মতে, বেশিরভাগ সময়েই নোট লিখেই যোগাযোগ করতো ললিত কারণ সে নীরবতা ব্রত পালন করতো। এমনকি তাদের দোকানে যারা কেনাকাটা করতে আসতো তাদের সঙ্গেও।
উত্তর দিল্লীর বুরারিতে একই পরিবারের ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় রোববার। নিহতদের দশজনের মরদেহ লোহার গ্রিলের সিলিংয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং একজন বয়স্ক নারীর মরদেহ মেঝেতে পাওয়া যায়। নিহতদের প্রত্যেকের হাত পেছনে এবং চোখ বাঁধা ছিলো।
৭৭ বছর বয়সী নারায়ণ দেবির সঙ্গে মৃতদেহ পাওয়া যায় ওই পরিবারের আরো ১০ জনের। তার মেয়ে প্রতিভা (৫৭), দুই ছেলে ভবনেশ (৫০) ও ললিত ভাটিয়া (৪৫)। ভবনেশের স্ত্রী সবিতা (৪৮)। তাদের তিন সন্তান মিনু (২৩), নিধি (২৫) ও ধ্রুব (১৫)। ললিতের স্ত্রী টিনা (৪২) এবং ১৫ বছরের ছেলে শিভাম। প্রতিভার মেয়ে প্রিয়াংকা (৩৩)।








