দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন করেছে ‘জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিরোধ মোর্চা’। মঙ্গলবার রাজধানী শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা দিল্লির সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ভারতের মতো উদার রাষ্ট্রে এধরনের সহিংসতা একেবারেই বিপরীতমুখি বলে মন্তব্য করেন।
সমাবেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ১৯৪৭ সালের ক্যাবিনেট মিশন রিপোর্ট বলেছিলো ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ কখনই সমস্যার সমাধান দেবে না। সেদিন সেই কথায় কেউ কর্ণপাত না করলেও আজকে ৭ দশক পরে সেটা সবাই টের পাচ্ছে। সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। এর রেষ টানতে হবে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানবতা ভূলুণ্ঠিত হবে, সাধারণ মানুষের উপর হামলা হবে আমরা সবসময় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব। ভারতের মতো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র যারা কিনা নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ আশা করছে, সেই দেশে এরকম সাম্প্রদায়িক সহিংসতা কাম্য নয়। ভারতের সাধারণ মানুষ এসকল অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, ভারতের ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের একটি মহল উস্কানি দিতে চেষ্টা করছে, যাদের লক্ষ্য কোনোভাবেই মানবিকতা রক্ষা নয়, বরং তারাও সাম্প্রদায়িক চিন্তা করে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের সরকার প্রধান আসবে এটাই তো স্বাভাবিক, আমরা মোদির বাংলাদেশে আগমনকে স্বাগত জানাই।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাবু চন্দন শীল বলেন, বিন্দু থেকেই সিন্ধু হয়, আজকের পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। আমাদের দেশেও কিছু কিছু মহল ধর্মীয় প্রচারণার নামে উস্কানিমূলক কথা বলছে, এসব থামাতে না পারলে এখানেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
জামিআ ইকরা বাংলাদেশের মুফতী ও মুহাদ্দিস ফয়জুল্লাহ আমান তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান পৃথিবীতে সব ধর্মের মানুষের সহবস্থান নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশেও একটি চক্র এই সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে চেষ্টা করছে। যে চক্র মনে করে, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বললে কুফরি হয়, সেই তারাই আবার বলছে মুজিববর্ষের ইজ্জত রক্ষা করতে মোদিকে বাংলাদেশে আসা রুখতে হবে। তাদের মতলব মোটেই সাম্প্রদায়িকতা নিঃশেষ করা নয় বরং সাম্প্রদায়িকতা লালন করা।
সমাবেশে সমাপনী বক্তব্য রাখেন জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিরোধ মোর্চার আহবায়ক ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।
তিনি বলেন, ঢাকা থেকে দিল্লী, শাহবাগ থেকে শাহীনবাগ, আমরা রাজনীতি বুঝিনা, আমরা কূটনীতি বুঝিনা। আমরা শুধু চাই ধর্ম, বর্ণ অথবা গোত্রের ভিত্তিতে মানব হত্যা চলবে না, চলতে দেয়া যাবে না।
জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রতিরোধ মোর্চার প্রধান সমন্বয়ক এফ এম শাহীনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন অপরাজেয় বাংলার সদস্য সচিব এইচ রহমান মিলু, উঠোনের সভাপতি অনিকেত রাজেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের জি এস শান্ত এবং বিজয় ৭১ হলের ছাত্রনেতা তারিক প্রমুখ।








