প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চিকিৎসক ও নার্সদের উচিত রোগীদের সঙ্গে সহানুভূতি নিয়ে কথা বলা। তবে দিনভর সরকারি চাকরি করে রাতে আবার বেসরকারি কাজ করলে অতিরিক্ত কাজে মেজাজ খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবসে রাজধানীর মুগদায় জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাক্তার-নার্সের মানুষকে সেবা দেয়ার মনোভাবই হচ্ছে এই পেশার সবচেয়ে বড় কথা। তাদের মধ্যে সবসময় এই মানসিকতাটা থাকতে হবে যে, একজন মানুষ যখন রোগী হয়ে আসে, তখন ওষুধের চেয়েও ডাক্তার বা নার্সের ব্যবহার, কথাবার্তা ও সহানুভূতিশীল মনোভাব থেকেই অর্ধেক রোগী ভালো হয়ে যেতে পারে। আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ – এই বিষয়গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘তবে আমি দোষ দেই না। কেননা আমাদের দেশের লোকসংখ্যা এত বেশি, আর সেই তুলনায় ডাক্তার-নার্স এত কম, তাদের এত বেশি রোগী দেখতে হয় যে, তাতে সবসময় সবার মেজাজ ঠিক রাখাও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।’
তবে এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিজেদের একটু সংযত হওয়া দরকার মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিনভর সরকারি চাকরি করবেন, আর রাতে গিয়ে প্রাইভেট করবেন, তারপর তো মেজাজ এমনিই খারাপ হবে। এটা তো খুব স্বাভাবিক। ওই ক্ষেত্রেও আপনাদের একটু হিসেব করে চলা উচিত যে আপনি কতটা ধারণ করতে পারেন। ততটাই কাজ করেন।’
রোগ নির্ণয়: কোথায় যেন ভুল হয়ে যায়
বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা দিনদিন আরও উন্নত হলেও ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমি একটা বিষয় দেখি, ডায়াগনোসিসে কেন যেন কোথায় একটা বিরাট ভুল হয়ে যায়। তাহলে যাদেরকে দিয়ে আপনারা ডায়াগনসিস করান, অনেক মডার্ন মেশিন আছে এখন, সেগুলোকে ঠিকঠাক চালানোর মতো, রিডিং নেয়ার মতো, দেখার মতো যথেষ্ট যোগ্য লোক তৈরি করা প্রয়োজন।’
এক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার উদ্দেশ্যে উদ্যোগ নিয়ে কী কী করতে হবে সেটা সরকারকে জানাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। সরকারই তখন সব করে দেবে।
এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া দরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নইলে একটা কিছু হলেই রোগীকে এখন দৌড়াতে হয় সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড, ভারতসহ নানা দেশে। ‘কেন?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
‘আর তারা ভালো করে দিতে পারলে আমরা কেন পারব না? এই প্রশ্নটাই আমার বারবার মনে হয় যে, আমরা কেন পারি না? আমরা কেন পারব না? আমাদেরও পারতে হবে। সমমানের, সমমর্যাদার চিকিৎসা সেবা আমরাও দিতে পারব, সেই শক্তিটা আমাদের অর্জন করতে হবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
অ্যাম্বুলেন্সের এক চাকা মেরামতের টাকা বের করতে গিয়ে চার চাকাই নষ্ট!
অ্যাম্বুলেন্সের রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আমাদের অ্যাম্বুলেন্সের একটা চাকা নষ্ট হয়, তখন ওই একটা চাকার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে টাকা বের করতে করতে চার চাকাই শেষ হয়ে যায়। এটা বাস্তব কথা।’
তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলো যে ভাড়া নেয়, সেখান থেকে একটি অংশ যদি ওই অ্যাম্বুলেন্সের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখা হয় তাহলে প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত হবে। সরকারি খাতে এই সমস্যাটি বেশি। তাই অন্তত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
‘জানি, বললেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাধা আসবে। বলবে সিস্টেম লস। কিন্তু ওই একটা চাকার জন্য যে দু’টো দিন নষ্ট হচ্ছে, তাতে যে লসটা হচ্ছে সেটা কারও মাথায় ঢোকে না।’
বাজেট প্রস্তুতির মাঝে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অ্যাম্বুলেন্স রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আগামী দু’দিনের মধ্যে প্রস্তাব আনা হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ১৪ তারিখের বৈঠকের মধ্যে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।
এছাড়া বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বে উচ্চ মর্যাদা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।








