প্রথম সেশনে ৩৫ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান তুলে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ রোদের তাপ প্রখর হতেই খোলস খুলে বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছে হতাশার দিন। জ্যামাইকা টেস্টের প্রথম দিন শেষ স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৯৫ রান।
অ্যান্টিগায় ৪০৬ রান তুলেই ইনিংস ও ২১৯ রানে জয় পেয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্যাবাইনা পার্কে ক্যারিবীয়দের ৬ উইকেট হাতে রেখে তিনশর কাছাকাছি রান তুলে ফেলা চিন্তাই বাড়াচ্ছে টাইগার শিবিরে।
দ্বিতীয় টেস্টেও দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে আউট হয়েছেন ১১০ রান করে। তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের তৃতীয় শিকার হন এ ডানহাতি ওপেনার। ২৭৯ বলের ইনিংসটি সাজানো ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে।
৮৪ রানে দিন শেষ করা শিমরন হেটমায়ারের সামনে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির হাতছানি। রস্টন চেজ অপরাজিত ১৬ রানে। তাদের পঞ্চম উইকেট জুটি অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রানে।
পিচ রিপোর্টে জ্যামাইকান ধারাভাষ্যকার বলছিলেন স্যাবাইনা পার্কের উইকেট দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং করা সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিং করা যে সহজ হচ্ছে সেটি বোঝা গেছে প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনে। চা-বিরতির পরের ৩২ ওভারে স্বাগতিকরা এক উইকেট হারিয়ে তুলেছেন ১৩১ রান।
দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যুর ২২ গজেও দেখা গেছে সবুজ ঘাসের যথেষ্ট উপস্থিতি। সকালের আবহাওয়া অবশ্য কাজে লাগানোর সুযোগ পাননি বাংলাদেশের পেসাররা। দুই পেসার নিয়ে একাদশ সাজানো আবু জায়েদ রাহি ও কামরুল ইসলাম রাব্বি প্রথম সেশনে করতে পেরেছেন মাত্র একটি করে ওভার। রান দেননি কেউই। তারা মেডেন ওভার পেলেও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আস্থা রাখেন স্পিনে। তাতে ফলও মেলে। উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৮ রানে।
শুরু থেকেই মেহেদী হাসান মিরাজের অফস্পিনের মুখে ধুঁকেছে স্বাগতিক ওপেনাররা। বেশি ধুঁকতে থাকা ডেভন স্মিথ (২) মিরাজের বলে শর্ট লেগে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দেন। প্রথম ঘণ্টা পার হতেই কায়রন পাওয়েলকে (২৯) এলবিডব্লিউ করে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন মিরাজই।
তৃতীয় উইকেট পড়ে লাঞ্চ বিরতির পরের ঘণ্টায়। দলীয় ১৩৮ রানের মাথায় তাইজুল ইসলামের বলে নুরুল হাসান সোহানের ক্যাচে ফেরেন ২৯ রান করা শাই হোপ।
তৃতীয় সেশনে পেসাররা যথেষ্ট হাত ঘুরালেও উইকেট তুলে নেয়ার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। তিন উইকেট নেয়া মিরাজ বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরী করেন। ভাগ্যের ছোঁয়ায় অবশ্য তাকে উইকেট দিতে হয়নি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের।
স্পিনারদের সাফল্যের দিনে ১৮ ওভার বল করেও সাকিবের উইকেটহীন থাকা টাইগার শিবিরে হতাশা কিছুটা হলেও বাড়িয়েছে।







